কলকাতা, পিউ নন্দী: সুপারস্টার জিৎ-এর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ দেখে সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ ও স্পষ্ট পোস্ট করেছেন অভিনেতা জিতু কামাল।
দীর্ঘদিন থেকেই চিত্রনাট্য বেছে সিনেমা করেন তিনি, প্রযোজনার দায়িত্বও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজের হাতে রাখেন। তাই ছবির সংখ্যায় কম হলেও তার অনুগামীর সংখ্যা মোটেও কম নয় তার।
‘মানুষ’ ছবিতে জিৎ-এর বিপরীতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করা জিতু নিজের এই লেখায় যেমন ছবির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, তেমনই তোপ দেগেছেন টলিউডের একাংশের সুবিধাবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে।
মাকে সঙ্গে নিয়ে ছবিটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছেছিলেন জিতু। তার মা স্বভাবসুলভ শান্ত ভঙ্গিতে ছবিটিকে ‘ভালো’ বললেও, এই প্রথমবার প্রেক্ষাগৃহে বসে তাকে হাততালি দিতে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। মানুষের মৌলিক আদর্শ টিকে থাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ছবির বার্তা তার হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে।
অনেকে ছবিটিকে এককভাবে জিৎ-এর স্টারডম হিসেবে দেখতে চাইলেও জিতুর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা। তার মতে, সমাজবাস্তবতার নিরিখে ছবিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টলিউডের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নীরবতা ও তথাকথিত 'লবি কালচার' নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেতা জিতু কামাল। তার মতে, ইন্ডাস্ট্রির একশ্রেণির মানুষ নিজেদের তৈরি বলয়ে বন্দি থেকে কেবল পারস্পরিক প্রশংসা ও স্বীকৃতি বিতরণের খেলাতেই মেতে রয়েছেন।
অতীতে পরিচালক অনীক দত্তের বিরুদ্ধে চলা চক্রান্তের প্রসঙ্গ টেনে জিতু উল্লেখ করেন, ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যুর পর এমন ভিত্তিহীন প্রচারও চালানো হয়েছিল যে অনীকের ছবির কারণেই নাকি তার স্বাস্থ্যহানি হতে পারত। এই সংকীর্ণ মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি জানান, প্রকৃতির বিচারেই শেষ পর্যন্ত সব হিংসা ও কুৎসার জবাব মেলে।
সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামকে যথাযথভাবে বড়পর্দায় তুলে ধরার জন্য তিনি অভিনেতা জিৎ ও তার সম্পূর্ণ দলকে সাধুবাদ জানান। সমস্ত প্রতিকূলতা, চক্রান্ত ও বিরোধিতা অতিক্রম করে জিৎ যে একাগ্রতা, মানসিক দৃঢ়তা ও ধৈর্য দেখিয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মিথ্যা প্রচার যতই হোক না কেন, সততা ও একাগ্রতা বজায় রাখলে জয় অনিবার্য, জিতুর কথায় স্পষ্ট সেই আত্মবিশ্বাস।