জলপাইগুড়ি, নিউজ ডেস্ক: বাঙালির পর্যটনের অন্যতম উত্তরবঙ্গ। হাতে কিছুটা সময় থাকলেই আর পাহাড় বেড়াতে ভালবাসলেই ভ্রমণ প্রেমীরা দার্জিলিং প্ল্যান করে বসেন। এবার জেলার পর্যটনকে নতুন আঙ্গিকে সাজাতে এবার নির্দিষ্ট একটি গন্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা নেওয়ার বার্তা দিল রাজ্য পর্যটন দফতর। ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট, ওয়ান ডেস্টিনেশন’ এই ভাবনাকে সামনে রেখে জেলার বিশেষত্বকে তুলে ধরে পর্যটনের প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা। অর্থাৎ একটি জেলার নির্দিষ্ট কোনও স্থান বা বিশেষত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে পর্যটনের বিশেষ প্যাকেজ। আর জলপাইগুড়ির ক্ষেত্রে সেই পরিকল্পনার অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে চা। একইসঙ্গে বনাঞ্চল ও পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রেখেই পর্যটন উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। ‘জলপাইগুড়ি টুরিজম স্টেকহোল্ডার কনফারেন্স’ নামে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
এই বৈঠকে রিসোর্ট ও হোমস্টে মালিক থেকে শুরু করে ট্যুর অপারেটর এবং পরিবহণ ব্যবসায়ী পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারও বৈঠকে নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এই পর্যটন কেন্দ্রে কিভাবে আরও বেশি পর্যটককে জলপাইগুড়িতে টানা যায়, কিভাবে পর্যটনের পরিকাঠামো উন্নত করা যায় তা নিয়েই চলে আলোচনা।
এ বিষয়ে পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, জলপাইগুড়ির চা-বাগানে পাতা তোলা থেকে শুরু করে কারখানায় চা তৈরির গোটা প্রক্রিয়াকেই পর্যটনের অংশ করা যেতে পারে। তৈরি হতে পারে বিশেষ ‘টি টুরিজম’ প্যাকেজ। তাই বিশেষ এই ভাবনা গ্ৰহন করা হতে চলেছে। তবে পর্যটনের নামে যেন প্রকৃতির ক্ষতি না হয়, সেই বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। ইকো-সেনসিটিভ জোনের নিয়ম মেনে, বন ও পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রেখেই পর্যটনের প্রসার ঘটাতে হবে এমনটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
এরই পাশাপাশি দুর্গাপুজোর আগে পর্যটকদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়েছে।পর্যটন দফতরের অধীনে থাকা প্রায় ৮০০ টি ঘর ও কটেজ সংস্কারের পাশাপাশি নতুন করে আরও ৮০০ টি ঘর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সমস্ত ধরনের কথা মাথায় রেখেই এই কাজ চলবে। তাই আগামী দিনে এই পর্যটনের আরও প্রসার ঘটবে এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
অর্থাৎ ধীরে ধীরে উত্তরবঙ্গের পর্যটন বেড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখানে নতুন বহু অভিজ্ঞতার উপলব্ধি ঘটবে। পর্যটনকে নতুন মোড়কে সাজাতে তৎপর পর্যটন বিভাগ।