উত্তর দিনাজপুর, নিউজ ডেস্ক: স্টপেজে বাস না থামানোয় চালককে জুতোপেটা মহিলার। ইটাহারে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে ধুন্ধুমার। হাত দেখানোর পরেও নির্দিষ্ট স্টপেজে সরকারি বাস না থামানোর অভিযোগ। আর সেই ক্ষোভে মাঝরাস্তায় বাসচালকের ওপর চড়াও হয়ে জুতোপেটা করার অভিযোগ উঠল এক মহিলা যাত্রীর বিরুদ্ধে।
রবিবার ঘটনাটিকে ঘিরে ইটাহারের সরাইদিঘি বাস টার্মিনাস সংলগ্ন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। বাসের চালক, কন্ডাক্টর ও ওই মহিলার বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইটাহার থানার ট্রাফিক পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ময়না এলাকা থেকে ইটাহারে আসার জন্য শিলিগুড়িগামী একটি সরকারি বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন ওই মহিলা। তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে হাত দেখানো সত্ত্বেও বাসটি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যায় চালক। এরপর তিনি বাধ্য হয়ে পিছনের আরেকটি সরকারি বাসে চেপে ইটাহারের উদ্দেশে রওনা হন।
এদিকে, সরাইদিঘি বাস টার্মিনাসে বাসটি পৌঁছতেই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগকারী মহিলা অপর বাসে এসে সেখানে নেমেই আগের বাসটিকে দেখতে পান। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি সরাসরি ওই সরকারি বাসের চালকের দিকে এগিয়ে যান এবং তুমুল কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ, উত্তেজনার চরম পর্যায়ে নিজের পায়ের জুতো খুলে চালককে মারধর করেন তিনি।
মহিলার দাবি, দিনের পর দিন এভাবে সাধারণ যাত্রীদের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। হাত দেখালেও চালকরা ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি দাঁড় করান না। অন্যদিকে বাসচালক ও কর্মীদের দাবি সম্পূর্ণ উল্টো। তাঁদের বক্তব্য, ওই মহিলা কোনও নির্দিষ্ট বা অনুমোদিত স্টপেজে ছিলেন না। ফলে চলন্ত বাস হঠাৎ সেখানে থামানো সম্ভব ছিল না। কিন্তু বাস টার্মিনাসে পৌঁছনো মাত্রই কোনও কারণ না শুনেই মহিলা মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং চালকের ওপর জুতো নিয়ে চড়াও হন।
দিনের ব্যস্ত সময়ে জাতীয় সড়কের ধারে এমন ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে পথচলতি মানুষ ও অন্যান্য যাত্রীরা জড়ো হয়ে যান। বেশ কিছুক্ষণ ধরে বচসা ও গোলমাল চলায় এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইটাহার থানার ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।