কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখেই জ্বালানির জ্বালা,পেট্রোল-ডিজেলের দাম একলাফে বাড়াল নায়ারা, সিঁদুরে মেঘ আমজনতার চোখে। শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর মেঘ, আর শহরের অলিগলিতে উৎসবের প্রস্তুতি। দুর্গাপুজো আসতে আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। কিন্তু আলোর মরসুমের ঠিক আগেই মধ্যবিত্তের হেঁশেল আর পকেটে বড়সড় এক অন্ধকারের খাঁড়া নেমে এল। উৎসবের মুখে দাঁড়িয়ে গাড়ি-বাইকের ট্যাঙ্ক ভরাতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের। এক ধাক্কায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিল দেশের অন্যতম প্রধান বেসরকারি জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থা ‘নায়ারা এনার্জি’।
সংস্থার নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক লাফে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে বাড়ানো হয়েছে ৫ টাকা। পিছিয়ে নেই ডিজেলও,প্রতি লিটারে দর বেড়েছে ৩ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্যের অস্থিরতা এবং খুচরো ব্যবসায় মুনাফার ওপর টান পড়াকেই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে খাড়া করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ‘রসনেফ্ট’-এর যৌথ মালিকানাধীন এই নায়ারা এনার্জির দেশজুড়ে প্রায় ৭,১০৮টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। বেসরকারি ক্ষেত্রে ভারতের বৃহত্তম জ্বালানি নেটওয়ার্ক তাদেরই হাতে। ফলে এই পদক্ষেপের প্রভাব যে শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য।
চলতি বছরে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তেলের দর বদল করল নায়ারা। এর আগে গত মার্চ মাসে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছিল এবং বিশ্ববাজারে তেলের জোগান ব্যাহত হয়েছিল, তখনও সংস্থাটি ঠিক একইভাবে পেট্রোলে ৫ টাকা ও ডিজেলে ৩ টাকা দাম বাড়িয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দর কমলে গত ১ জুলাই সেই বর্ধিত দর প্রত্যাহার করে নিয়েছিল তারা। কিন্তু স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হল না। উৎসবের কেনাকাটা ও ভ্রমণের মরসুম শুরু হতেই ফের পুরনো অঙ্কেই দাম বাড়াল এই বেসরকারি সংস্থা।
পুজোর মুখে এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে আমজনতার প্রাত্যহিক জীবনে। উৎসবের এই দিনগুলোতে কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাতায়াত কিংবা পরিবার নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোনোর জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইকের ওপরই মানুষ সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন। কিন্তু এক লাফে লিটার প্রতি পাঁচ-তিন টাকা বেড়ে যাওয়ায় যাতায়াতের হিসেবটাই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। এর চেয়েও বড় আশঙ্কার জায়গা বাণিজ্যিক পরিবহণ। ডিজেলের দাম বাড়লে লরি, বাস, ট্যাক্সি ও অ্যাপ-ক্যাব মালিকরা যে ভাড়া বাড়াতে দ্বিধা করবেন না, তা বলাই বাহুল্য। আর পরিবহণ খরচ বাড়লে শাকসবজি, ফলমূল থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দামেই তার আঁচ পড়বে।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন অন্যত্র। নায়ারার এই সিদ্ধান্তের পর কি তবে সরকারি তেল সংস্থাগুলোও একই পথে হাঁটবে? ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম কিংবা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো এখনও দাম বাড়ানোর ঘোষণা না করলেও, গ্রাহকদের মনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন প্রমাদ গুনছেন বেসরকারি সংস্থার দেখানো পথে হেঁটে সরকারি তেল সংস্থাগুলোও যদি উৎসবের মুখে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে মধ্যবিত্তের পুজোর আনন্দ যে তেলের ধোঁয়ায় ফিকে হয়ে যাবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।