স্পোর্টস ডেস্ক: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রীতি ম্যাচের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সবুজ-মেরুনের নাটকীয় রাত। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ১২০ মিনিটের টানটান লড়াইয়েও দেখা মিলল না গোলের। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে পাঞ্জাব এফসিকে হারিয়ে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে উঠে গেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস। আর সেই জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় নাম গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। শুটআউটে দু’টি পেনাল্টি বাঁচিয়ে দলকে ফাইনালের টিকিট এনে দিলেন তিনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও ম্যাচের স্কোর থাকল ০-০। ফলে শুটআউটেই ঠিক হল ভাগ্য। সেখানে একের পর এক নাটকীয় মুহূর্তের পর শেষ হাসি হাসল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান।
শুরু থেকেই আক্রমণে বেশি ধার ছিল মোহনবাগানের। প্রথমার্ধে একাধিকবার পঞ্জাবের রক্ষণকে চাপে ফেলে সবুজ-মেরুন। ম্যাচের ছ’মিনিটেই ডেজান দ্রাজিচ বক্সে ঢুকে পড়ে পেনাল্টির আবেদন করেন, যদিও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। এর কিছু পরেই এর্ভিনের সামনে এসে গিয়েছিল সহজ সুযোগ। পাঞ্জাবের গোলরক্ষক অর্শদীপ সিং এগিয়ে আসায় ফাঁকা গোলে বল পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত ট্যাকলে বিপদ সামাল দেন পাঞ্জাবের ডিফেন্ডার। দশ মিনিটে এর্ভিনের জোরালো ফ্রি-কিকও অর্শদীপ দুরন্ত সেভে পোস্টের বাইরে বার করে দেন। ৩৯ মিনিটে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের অসাধারণ স্কিসর-কিকও গোল হতে দেননি অর্শদীপ। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।

দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মোহনবাগান। ৫১ মিনিটে পাঞ্জাব গোলরক্ষক এগিয়ে এসে ভুল করলেও ফাঁকা গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাগান। পাঞ্জাবও অবশ্য সুযোগ পেয়েছিল। ৬১ মিনিটে আলফ্রেড প্লানাসের লুপিং হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৮৫ মিনিটে সেট-পিস থেকে সুবাশিস বসের ফ্লিকের পর বল জালে জড়িয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। নির্ধারিত সময় শেষে স্কোর ০-০। অতিরিক্ত সময়েও ছবিটা বদলায়নি। ১০৪ মিনিটে মোহনবাগানের সামনে বড় সুযোগ এসেছিল, কিন্তু পঞ্জাবের পরিবর্ত গোলরক্ষক দুরন্ত সেভ করে দলকে বাঁচান। ১০৮ মিনিটে মিগুয়েল ফিগেইরার বাঁকানো শটও ক্রসবারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিই হয়ে ওঠে একমাত্র পথ।
শুটআউটে প্রথমে পাঞ্জাবের রাফায়েল মেসি বোলি ক্রসবারে লেগে জালে বল পাঠান। মোহনবাগানের রাহুল ভেকে দুর্দান্ত শটে জবাব দেন। এর পর দুই দলই নিজেদের দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করে। কিন্তু তৃতীয় সিরিজে এসে ম্যাচের রং বদলে দেন বিশাল কাইথ। পাঞ্জাবের শাইজার পেনাল্টি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান তিনি। মোহনবাগানের আলবের্তো গোল করে এগিয়ে দেন দলকে। পরে পাঞ্জাবের বিশাল যাদবের পেনাল্টিও একই ভাবে রুখে দেন কাইথ। যদিও মোহনবাগানের দ্রাজিচের শট পাঞ্জাবের পরিবর্ত গোলরক্ষক বাঁচিয়ে দেন, শেষ পর্যন্ত কাইথের দুই সেভই পার্থক্য গড়ে দেয়। পাঞ্জাবকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে মোহনবাগান। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এ দিন সবুজ-মেরুনের নায়ক নিঃসন্দেহে বিশাল কাইথ।
