নিউজ ডেস্ক: ফের অশান্তির আঁতুড়ঘরে পরিণত হলো বাইপাস লাগোয়া সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে ভেঙে পড়ার উপক্রম, পুলিশের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে এগোনোর মরিয়া চেষ্টা এবং মুহুর্মুহু স্লোগানে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। রবিবার অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল।
তারই পাল্টায় বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদ মিছিল পৌঁছতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অজয়নগর থেকে মিছিলটি ক্যাম্পাসের অভিমুখে রওনা হয়। খবর আগে থেকেই প্রশাসনের কাছে ছিল, ফলে ইনস্টিটিউটের সামনে কড়া ব্যারিকেড গড়ে তুলেছিল পুলিশবাহিনী। কিন্তু দুপুরের দিকে মিছিল পৌঁছতেই সেই নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যত খড়কুটোর মতো ভেসে যায়। পুলিশকর্মীদের প্রতিরোধ উপেক্ষা করে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় উন্মত্ত জনস্রোত। বিক্ষোভকারীরা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের মূল লোহার গেটের ওপর আছড়ে পড়েন এবং গেট ধরে প্রবল ঝাঁকুনি দিতে থাকেন।
অভিযোগ, জোর করে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢোকার চেষ্টার পাশাপাশি গেটের ওপার লক্ষ্য করে প্লাস্টিকের বোতলও ছোড়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দ্রুত সক্রিয় হয়ে ধরপাকড় শুরু করলে ক্ষোভ আরও বাড়ে।
এক বিক্ষোভকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পুলিশ উল্টে আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছে, অতিসক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এই সব পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবাই সাসপেন্ড হবে।”
অন্য এক বিক্ষোভকারীর দাবি, রবিবার ক্যাম্পাসে বামপন্থীরা ভারতমাতা এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে অবমাননা করেছে, লাথি মেরেছে। আজকের প্রতিরোধ আসলে সেই অপমানের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবাদী’ ও সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
সংগঠনের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে জানান,এটি কোনও রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, ভারতমাতার অপমানের বিরুদ্ধে সাধারণ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত এবং নিরস্ত্র এক প্রতিবাদ। তাঁর কথায়, সংবিধানে দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার মেনেই এই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
গেটের সামনে ধস্তাধস্তি ও ব্যাপক টানাপোড়েনের পর পুলিশ কোনওরকমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়।
নতুন করে যাতে আর কোনও অশান্তি বা পাল্টা হামলা না ছড়ায়, সেজন্য এসআরএফটিআই-এর প্রধান ফটক ও সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।