জম্মু-কাশ্মীর, নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে ফের আতঙ্কের ছায়া কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যে। জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী একাধিক কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারের নাম ও বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করে একটি হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর উদ্বেগ বেড়েছে। চিঠিতে ওই পরিবারগুলির গতিবিধির উপর নজর রাখার দাবি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে হুমকিদাতাদের হাতে পৌঁছল, তা নিয়েও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্রের খবর, ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ নামে একটি সংগঠনের প্যাডে আহমেদ বিলাল নামে এক ব্যক্তির স্বাক্ষর করা চিঠিটি ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রায় আধ ডজন কাশ্মীরি পণ্ডিতের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। চিঠিতে তাঁদের ‘হোয়াইট কলার টেররিস্ট’ এবং দিল্লির হয়ে কাজ করা ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
চিঠিটির আরও একটি দিক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কাশ্মীরে থেকে যাওয়া পণ্ডিত পরিবার এবং ৯০-এর দশকে উপত্যকা ছেড়ে চলে আসা বাস্তুচ্যুত পণ্ডিতদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, যারা উপত্যকায় থেকে গিয়েছেন এবং সরকারি সুবিধা নেননি, তাঁরা নিরাপদ। অন্যদিকে, বাইরে চলে যাওয়া এবং পণ্ডিতদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিশানা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। চিঠিটি সত্যি কি না, তার পাশাপাশি ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ নামে কোনও সংগঠন বাস্তবে সক্রিয় কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, পুরনো জঙ্গি সংগঠনের নাম বা স্থানীয় পরিচয় ব্যবহার করে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হতে পারে।
এর মধ্যেই কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর অতীতের হামলার মামলাগুলিও নতুন করে তদন্তের আওতায় আসছে। ১৯৯৮ সালের ওয়ানধামা গণহত্যা মামলার তদন্ত দীর্ঘ সময় পর ফের শুরু করেছে জম্মু-কাশ্মীর স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। পাশাপাশি টিকা লাল টাপলু, বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জু এবং অন্যান্য কাশ্মীরি পণ্ডিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে।
সারলা ভাট হত্যা মামলাতেও সম্প্রতি চার্জশিট পেশ করেছে এসআইএ। ফলে নতুন হুমকি চিঠির ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।