লরেন্স বিষ্ণোই--নামটাই যথেষ্ট কোন সেলেব অথবা ব্যবসায়ীর রাতের ঘুম,দিনের কাজ নষ্ট করে দেওয়ার জন্য। অভিনেতা সলমন খানকে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করার জন্য বারবার মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল কুখ্যাত এই গ্যাং।গত বছর মুম্বই পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল, যে বিষ্ণোইয়ের সহযোগী গোল্ডি ব্রারের নাম নিয়ে কমেডিয়ান কপিল শর্মার কাছে ১কোটি টাকা দাবি করেছিল।এর নেপথ্যে কারন হিসেবে উঠে আসে কপিল শর্মার সাথে সলমন খানের সুসম্পর্ক। সেইসময় কানাডায় এই কমিডিয়ানের হোটেলে গুলি চালায় বিষ্ণোই গ্যাং। এছাড়াও গায়ক সিধু মুসাওয়ালাকেও খুন করেছিল এই গ্যাং।লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে জেলে বন্দি থাকলেও সেখান থেকেই তাঁর গ্যাং আন্তর্জাতিক অপরাধমূলক কাজ, যেমন—খুন, তোলাবাজি ও মাদক পাচার চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এই ক্ষেত্রে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বন্দুকের নিশানা কলকাতার এক ব্যবসায়ী! ভবানীপুরের শরৎ বোস রোডের বাসিন্দা ওই ব্যবসায়ীর কাছে আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ফোন করে ৫ কোটি টাকা তোলা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।পুলিশ সূত্রের খবর, গত ৩০ জুন প্রথম ওই ব্যবসায়ীর কাছে একটি বিদেশের নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে ওপ্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয় এবং ৫ কোটি টাকা দাবি করে। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ,গত এক মাস ধরে তাঁকে প্রতিনিয়ত ফোন ও ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি টাকা না দিলে ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছে ওই ব্যক্তি। প্রাণভয়ে ভবানীপুর থানার দ্বারস্থ হন ওই ব্যবসায়ী।। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিটকে(স্পেশাল ইউনিট)। এটি সত্যিই লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের কাজ, নাকি তাঁদের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ টাকা হাতানোর চক্রান্ত করছে--তা তদন্ত করে দেখছেন পুলিশ আধিকারিকরা।