হাবিবুর রহমান, ঢাকা : কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার ৪ জন ও সাভারের একজনের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা।
এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতাতেই সৎকার করা হবে।
মরদেহ সংরক্ষণ থেকে শুরু করে বাংলাদেশে পাঠানোর যাবতীয় খরচ বহন করছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশন। এ কারণে শুক্রবার রাতে মরদেহগুলো কলকাতার পার্ক সার্কাসের পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে কুষ্টিয়ার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শারমীন, তাঁদের সন্তান শর্ণশীষ দত্ত এবং মো. আকরাম আলীর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একইভাবে সাভারের আহামেদ বাবু এবং সাতক্ষীরার বাসিন্দা এসএম আলিমুজ্জামানের মরদেহও ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো কফিনে রাখা হয় এবং অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়।
এরপর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের উদ্দেশে রওনা হন। শুক্রবার রাতেই বাংলাদেশ মিশন এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরার বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার কলকাতার নিমতলা শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
নিউমার্কেট এলাকার ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে দুই দেশেই শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্ত, মরদেহ হস্তান্তর এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতিপত্রের প্রক্রিয়া শেষ করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।
এ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪) এবং সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহম্মেদ বাবু (৩৭) ওই এলাকার আদম আলীর ছেলে। মরদেহ সংগ্রহের জন্য শুক্রবার বিকেল থেকেই বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থান করছেন আহম্মেদ বাবুর স্বজনরা।
মরদেহ নিতে আসা আহম্মেদ বাবুর মেজো ভাই মনির হোসেন বলেন, সোমবার রাতে ব্যবসায়িক কাজে কলকাতা যান আহম্মেদ বাবু। সেখান থেকে পরিবারের সঙ্গেও কথা হয়, কিন্তু কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগার পর আর বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি ফেরদৌস হোসেন খান জাজবাত২৪ বাংলাকে বলেন, শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে ৫ বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দেশে ফিরবে। মরদেহ গ্রহণ করতে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।