বুধবার বিধানসভায় উত্তেজনার ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই বৃহস্পতিবার সম্পূর্ণ এক ভিন্ন ছবি দেখা গেল বিধানসভায়। এদিন বিধানসভা কক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের সৌজন্য বিনিময়ে মুছে গেল গত দিনের সংঘাত। দুই বিধায়কের কথোপকথন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।
জানা গিয়েছে এদিন কুনাল ঘোষ নিজে থেকেই কথা বলেন আখরুজ্জামানের সঙ্গে। কুনাল ঘোষ বলেন, "আমার আপনার প্রতি কোনো রাগ নেই। আমাকে ভুল বুঝবেন না। কিন্তু আমাকে বলতে দেওয়া হোক।" প্রত্যুত্তরে রসিকতা করে আখরুজ্জামান বলেন, আমি কে? “আমার নেতা ববিদা। আমার ওপর রাগ না করে তুমি ববি দাকে বল।”
সেই মুহূর্তে সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিধায়ক। কুনালের সঙ্গে আখরুজ্জামানের এই কথোপকথনে উপস্থিত বিধায়কদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। যেন আগের দিনের ঘটনায় তৈরি হওয়া অস্বস্তির আবহ এক নিমেষেই কেটে গেল সৌজন্য সাক্ষাতে।
মূলত বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ না পাওয়ায় বুধবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কুণাল ঘোষ। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের আলোচনায় বক্তব্য রাখার তালিকায় নিজের নাম থাকা সত্ত্বেও তা বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি ছিল, বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানই সেই নাম কেটে দেন। তাই প্রতিবাদে আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখতে উঠলে তাঁর মাইকের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন কুণাল ঘোষ এবং বক্তব্যে বাধা দেন।
তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘাতের জায়গায় সৌজন্য, একে অন্যের সাথে কথোপকথন, আর সেখান থেকেই রসিকতার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক মতবিরোধের মধ্যেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সামনে এল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।