কলকাতা, কেয়া মণ্ডল: হাইকোর্টে বড় ধাক্কা টুলু মণ্ডলের। গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার আদালতে সেই মামলা হয় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। কিন্তু, তাঁর গ্রেফতারির উপরে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করল না আদালত। তবে জামিনের আবেদন জানানোর রাস্তা তাঁর কাছে খোলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে হাই কোর্ট।
এদিন আদালতে টুলুকে মেঘের আড়াল থেকে যুদ্ধ করা ইন্দ্রজিতের সঙ্গে তুলনা করেন বিচারপতি। আদালতে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন,‘এখানে তো মামলাকারী রামায়ণের ইন্দ্রজিৎ। মেঘের আড়ালে বসে সব লক্ষ্য করছেন। তিনি দেশের বাইরে বসে। তিনি তো মুক্ত। তাঁকে কী সুরক্ষা দেবে কোর্ট?’ অপর পক্ষের আইনজীবীর সওয়ালেও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এখনই তদন্তে হস্তক্ষেপের কোনও কারণ দেখছে না আদালত।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্য পুলিশ প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। প্রয়োজনে টুলু মণ্ডলও আইনসম্মত পথে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারবেন। ফলে প্রায় ২০০ কোটির সাম্রাজ্যের মালিকের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাবে পুলিশ। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপও করতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা।
এর আগে গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন টুলু। মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদনও জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী। সেই মামলা বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে উঠলে তিনি তা ফিরিয়ে দেন। কারণ, টুলু মণ্ডল সংক্রান্ত মামলা ইতিমধ্যেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিচারাধীন ছিল। এবার সেই এজলাসেও স্বস্তি পেলেন না টুলু।
এদিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই বেপাত্তা টুলু মণ্ডল। তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য হাতে পায়নি তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার সকালে সিউড়ির সুভাষপল্লিতে টুলুর বাড়িতে গিয়ে আদালতের নোটিস সাঁটিয়ে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। নোটিসে তাঁকে আগামী শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে সিউড়ি আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, টুলুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড কর্নার নোটিস’ জারির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর তাঁর উপর আইনি চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। টুলুর বিরুদ্ধে পুলিশের নজরদারি বাড়ার অন্যতম কারণ, বীরভূমের মহম্মদবাজারের ডেউচা এলাকায় তাঁর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনা। পুলিশ সূত্রে দাবি, সেখান থেকে প্রায় ২৮.৫০ কোটি টাকা নগদ এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়। এরপর থেকেই টুলু মণ্ডলের সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। তাঁর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বেআইনি সম্পত্তির হদিস খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিশ।