হুগলি, নিউজ ডেস্ক: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মর্মান্তিক পরিণতি কোন্নগরে, প্রেমিকের পর আত্মঘাতী প্রেমিকাও। পরকীয়ার জটিল টানাপোড়েন আর তীব্র পারিবারিক কলহের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রাণ গেল এক যুগলের। প্রেমিকের আত্মহত্যার ধাক্কা সামলাতে না পেরে আত্মঘাতী হলেন প্রেমিকাও। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির কোন্নগরে।
মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে যুগলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে কোন্নগর গোপাল চন্দ্র বোস সরণির বাসিন্দা সঙ্গীতা সাউয়ের (২৫) সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল স্থানীয় যুবক সোমনাথ মণ্ডলের। তাঁদের একটি ছোট কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই সংসারে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। অশান্তির মাঝেই মাস ছয়েক আগে সামাজিক মাধ্যমে কোন্নগর চটকল এলাকার বাসিন্দা, পেশায় টোটোচালক সন্দীপ গুপ্তার (২৬) সঙ্গে আলাপ হয় সঙ্গীতার। ধীরে ধীরে সেই আলাপ গভীর প্রেমে রূপ নেয়।
বিবাহবহির্ভূত এই সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হতেই সংসারে শুরু হয় অশান্তি। স্বামীর সঙ্গে নিত্যদিনের বনিবনা না হওয়ায় মাস দুয়েক আগে শিশুকন্যাকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসেন সঙ্গীতা। তবে সেখানেও রেহাই মেলেনি। মেয়ের এই সম্পর্কের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি তাঁর নিজের পরিবারও, ফলে বাপের বাড়িতেও রোজ অশান্তি লেগে থাকত।
পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় গত বুধবার। অভিযোগ, ওই দিন সন্দীপের সঙ্গে বাইরে বেরিয়েছিলেন সঙ্গীতা। গভীর রাত পেরিয়ে ভোর চারটে নাগাদ তিনি বাপের বাড়ি ফেরেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যেই শুরু হয় প্রবল বাদানুবাদ। মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে পরের দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কোন্নগর স্টেশনের কাছে রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন সন্দীপ। খবর পেয়ে বেলুড় জিআরপি তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।
এদিকে সন্দীপের মৃত্যুর খবর কানে পৌঁছতেই মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন সঙ্গীতা। পরিবারের দাবি, গত দু’দিন ধরে তিনি কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে শনিবার দুপুরে বাপের বাড়ির দোতলার একটি বন্ধ ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তড়িঘড়ি দরজা ভেঙে তাঁকে নামানো হলেও শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।