নিউজ ডেস্ক: আদালতের নির্দেশে পুলিশি হেফাজত মেলার পর ক্যানিং পূর্বের একদা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শাহজাহান মোল্লাকে মাধবপুর থানায় নিয়ে আসার সময় চরম উত্তেজনা ছড়াল। দুর্নীতি, বেআইনি তোলাবাজি ও বিরোধী কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে সম্প্রতি পুলিশের জালে ধরা পড়েন এই দাপুটে নেতা।
এদিন তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া ঘিরে থানার সামনে তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি।
কয়েকদিন আগেই পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হন শাহজাহান মোল্লা।বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তদন্তকারীরা তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ পান। সেই নির্দেশ অনুযায়ী রবিবার কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁকে মাধবপুর থানায় হাজির করা হয়। এদিন সকাল থেকেই থানার বাইরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর হঠাৎই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে একটি পুলিশের গাড়ি এসে থানার মূল ফটকের সামনে দাঁড়ায়।
গাড়ি থেকে শাহজাহান মোল্লাকে নামানোর মুহূর্তেই ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে এগিয়ে যান উপস্থিত সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকরা। কিন্তু অভিযোগ, ঠিক সেই মুহূর্তেই কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয় বলে সরাসরি অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও বুম একপ্রকার জোর করে ঠেলে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি বচসার পরিস্থিতি তৈরি করে দ্রুত গতিতে শাহজাহান মোল্লাকে থানার ভেতরে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ভেতরে নেওয়ার পরপরই সাংবাদিকদের প্রবেশ আটকাতে থানার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এমন আচমকা আচরণে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে।
কর্তব্যরত সাংবাদিকদের প্রশ্ন, একজন অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে আসার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটিকে কেন এভাবে আড়াল করার চেষ্টা হল? কেনই বা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তার মুখে পড়তে হল?
এদিকে ক্যানিং পূর্ব এলাকায় শাহজাহান মোল্লার রাজনৈতিক অতীত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা দীর্ঘদিনের। এলাকায় তাঁর দাপট ও প্রতিপত্তির কথা অজানা নয় কারও। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, কাটমানি এবং পঞ্চায়েত স্তরে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর রাজনৈতিক সন্ত্রাসের একাধিক অভিযোগ আগে থেকেই জমা হচ্ছিল।
অবশেষে তাঁর গ্রেফতারি ও পুলিশি হেফাজতের পর সাধারণ মানুষের নজর ছিল আইনি পদক্ষেপের দিকে। কিন্তু এদিন মাধবপুর থানার এই অতিরিক্ত রাখঢাক ও সংবাদমাধ্যমকে বাধা দেওয়ার ঘটনা নতুন করে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক সদিচ্ছাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল।
