রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুলিশ প্রশাসনকে নতুন করে সাজাতে আরও এক দফা বড়সড় পদক্ষেপ করল লালবাজার। বৃহস্পতিবার এক সরকারি নির্দেশিকা জারি করে কলকাতা পুলিশের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার মোট ৩৩ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন একাধিক থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) এবং অ্যাডিশনাল ওসি। এই রদবদলের ফলে শহরের প্রায় ২০টি থানার শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে।
এবারের রদবদলের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বহু বছর পর কলকাতার দুটি সাধারণ (জেনারেল) থানার শীর্ষ দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে দুই মহিলা পুলিশ আধিকারিকের হাতে। উল্টোডাঙা মহিলা থানার প্রাক্তন ওসি তথা বিধানসভা ভোটের সময় কালীঘাট থানার দায়িত্ব সামলানো চামেলি মুখোপাধ্যায়কে সিঁথি থানার নতুন ওসি করা হয়েছে। অন্যদিকে, টালিগঞ্জ মহিলা থানার ওসি রূপা সিংকে সরশুনা থানার নতুন ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরুষতান্ত্রিক প্রথা ভেঙে একসঙ্গে দুই মহিলা অফিসারকে সাধারণ থানার নেতৃত্বে আনায় লালবাজারের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
ভবানীপুর থানাতে নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজীব চট্টোপাধ্যায়। বিদায়ী ওসি সৌমিত্র বসুকে পাঠানো হয়েছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সে (STF)। চেতলা থানাতে নতুন ওসি হিসেবে এলেন মৌসম চট্টোপাধ্যায়। পার্কস্ট্রিট থানায় নতুন ওসি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অমিত চট্টোপাধ্যায়।ভাঙড় থানাতে ওসির দায়িত্ব পেলেন গৌতম রুজ।
লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক কাজে গতি আনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও দক্ষ করে তুলতেই এই রদবদল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে 'আইনের শাসন' প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই পদক্ষেপ তারই অংশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নতুন সরকারের দুই মাসের মধ্যেই শীর্ষস্তরের আইপিএস এবং ১০৮ জন আইসি-র বদলির পর, থানার স্তরে এই ব্যাপক রদবদল স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, শহরের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগোচ্ছে বর্তমান সরকার।