মালদা, রেশমি ব্যানার্জি: বয়স ১০৫! শরীর ভেঙ্গে গিয়েছে, দৃষ্টিশক্তি কমেছে, বার্ধক্যের নানা সমস্যায় জর্জরিত। অথচ জীবনের একটা দীর্ঘ সময় কেটে গিয়েছে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে। অবশেষে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মিলল মুক্তি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কারাগারের জীবন থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত হলেন মালদহের রসিক চন্দ্র মন্ডল। পশ্চিমবঙ্গের জেলা- ইতিহাসের প্রবীণতম বন্দি হিসেবে পরিচিত রসিকচন্দ্র এবার স্বাধীন নাগরিকের মত বাকি জীবন কাটাতে পারবেন।
রসিকচন্দ্রের জীবনে কারাগারের অধ্যায় শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগে। ১৯৮৮ সালে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে ভাই সুরেশ মন্ডলকে খুনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ১৯৯৮ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। সেই সময়ই রসিকচন্দ্রের বয়স ছিল ৭৪ বছর। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু ২০১৮ সালে হাইকোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে।
এরমধ্যে সময় নিজের গতিতে এগিয়েছে। কর্মক্ষমতা হারিয়েছে শরীর। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমেছে। বয়সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা শারীরিক সমস্যা। এক সময় ১০০ বছরের দোরগোড়ায় পৌঁছে যান রসিক চন্দ্র। তখন বার্ধক্য ও শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। অবশেষে ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর বড় স্বস্তি আসে। ১০৩ বছর বয়সে রসিকচন্দ্রকে অন্তর্বর্তী মুক্তি দেন সুপ্রিম কোর্ট। তারপর থেকেই জেলের বাইরে ছিলেন তিনি। এবার তাঁর সেই মুক্তিই স্থায়ী হল।
সূত্রে খবর, ২০২৬ সালে তাঁর বয়স ১০৫ বছর। বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং দীর্ঘ কারাবাসের বিষয়টি বিবেচনা করে বাকি সাজা মুকুবের সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে।
অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আর কারাগারে ফিরতে হবে না রসিকচন্দ্রকে। জীবনের শেষ অধ্যায়টা এবার নিজের মতো কাটানোর সুযোগ পেলেন তিনি। এক সময় ৭৪ বছর বয়সে শুরু হয়েছিল তাঁর কারাবাস। আর ১০৫ বছর বয়সে এসে খুলল সেই কারাগারের দরজা। দীর্ঘ ৩১ বছরেরও বেশি সময়ের কারাজীবনের পর রসিকচন্দ্রের ঘরে ফেরার এই কাহিনী যেন সময়ের এক দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ।