হাওড়া শহরের ভৌত পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যা দূর করতে একযোগে পা বাড়াল হাওড়া পুরসভা এবং রেল কর্তৃপক্ষ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হাওড়া শহর ও পুর এলাকার একটি বড় অংশই রেলের এক্তিয়ারভুক্ত জমিতে অবস্থিত। ফলে এককভাবে নিকাশি সংস্কার বা রাস্তা চওড়া করার মতো কাজে এতদিন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতো। এবার সেই জট কাটিয়ে শহরের সার্বিক ভোলবদল করতে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিল দুই পক্ষ। সম্প্রতি এই বিষয়ে হাওড়া পুরসভা ও রেলের পদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে কাজের রূপরেখা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া স্টেশন চত্বর এবং হাওড়া ফেরিঘাটের ভোলবদল ও আধুনিকীকরণের কাজ দুই সংস্থা মিলেই করবে। পাশাপাশি, শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে রেলের জমিতে থাকা নিকাশি নালাগুলি যৌথ উদ্যোগে সাফাই ও সংস্কার করা হবে। বিশেষ করে লিলুয়ার রানিঝিলের সংস্কার হলে ওই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জল নিকাশি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে, তাই এই ঝিল সংস্কারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতি বর্ষায় বেলুড় ও গড়ফা স্টেশন সংলগ্ন রেল আন্ডারপাসগুলিতে জল জমে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ হয়, তা স্থায়ীভাবে মেটাতে দুই পক্ষ একসঙ্গে আধুনিক ড্রেনেজ পাম্পিং সিস্টেম গড়ে তুলবে।
শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে রাস্তা চওড়া করার ক্ষেত্রেও দুই সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে এগোবে। কার সীমানায় কতটা জমি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাই জানান, ফরশোর রোড চওড়া করার বিষয়ে রেলের সঙ্গে সদর্থক আলোচনা হয়েছে। এই রাস্তার যে অংশটি রেল পুরসভাকে লিজে দিয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হলেও জনস্বার্থে নতুন করে যৌথ রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি বঙ্কিম সেতু, চাঁদমারি ব্রিজ এবং বামনগাছি ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেল ওভারব্রিজগুলির দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে রেল কর্তৃপক্ষকে হাওড়া পুরসভা সব ধরনের কারিগরি ও প্রশাসনিক সাহায্য দেবে বলে জানানো হয়েছে। দুই সরকারি সংস্থার এই নজিরবিহীন সমন্বয় হাওড়াবাসীর জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।