পশ্চিমবঙ্গের বুকে শেষবার শিল্পোন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্ত,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
যে ভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার এবং লাগাতার আন্দোলন করেছিলেন তাতে তা রূপায়িত হয়নি।এরপর তৃণমূল জমানায় শিল্প আনার নামে 'ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সামিট' হয়েছে ঠিকই, কিন্ত শিল্প আসেনি! এই কারনেই পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের খরা কাটাতে এবং বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে জমি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ডানকুনিতে একটি শিল্প কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে এখন থেকে শিল্প, রেল, জাতীয় সড়ক কিংবা বিমানবন্দরের জন্য সরকার সরাসরি জমি কিনবে এবং তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেবে।এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত দুটি বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে--ক)জমি কেনাবেচায় ‘দালালচক্র’ বা ‘দাদাগিরি’ বন্ধ করা। খ)সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো জমি আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এড়ানো।
শুভেন্দু অধিকারী'র সরকার ২০১৩ সালের কেন্দ্রীয় জমি অধিগ্রহণ নীতি গ্রহণ করেছে, যেখানে গ্রামীণ এলাকায় জমির জন্য চার গুণ এবং শহরাঞ্চলে দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকার এই নীতি গ্রহণ না করায় জমি কেনাবেচায় যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা মেটানোই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এছাড়াও, ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা বা পঞ্চায়েত স্তরের লাল ফিতের ফাঁস কাটাতে 'সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম' বা এক জানলা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দোরদোর ঘুরতে হবে না।
গত প্রায় পাঁচ দশকের (৩৪ বছরের বাম এবং ১৫ বছরের তৃণমূল শাসন) শিল্প খরা কাটিয়ে রাজ্যকে বিনিয়োগে দেশের সেরা করে তুলতে বদ্ধপরিকর বর্তমান ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। তবে এই পথে মূল বাধা রাজ্যের কাঁধে থাকা ৮ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল ঋণ, যার সুদ-আসল মেটাতেই বছরে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন-- "শুধু সরকারি চাকরি দিয়ে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয়। বড় শিল্পের পাশাপাশি রাজ্যে লক্ষ লক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি করতে কম সুদে ঋণ দেবে সরকার।"
আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণ এবং সরকারি সহায়তায় ব্যবসা বৃদ্ধির এই ত্রিমাত্রিক পরিকল্পনা সফল হলে রাজ্যের বেকারত্ব কমবে, কৃষকদের আয় বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




