কলকাতা, কেয়া মণ্ডল:বুধবার মধ্যরাত থেকে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবারও দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও এবিভিপির মিছিলকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যাদবপুর থানা চত্বর।
এবার এই অশান্তির ঘটনায় সরব হলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত৷
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘যাদবপুর আমার বিধানসভার মধ্যে পড়ে না কিন্তু একদম বর্ডারে। রাস্তার এপার হচ্ছে রাজবিহারী রাস্তার ওপারে হচ্ছে যাদবপুর। তাই যাদবপুরে কি হয় তার একটা প্রভাব রাসবিহারীতে পড়ে। ছাত্র আন্দোলন নতুন কিছু নয় পশ্চিমবঙ্গের কাছে। ভুলভাল কারণে আবারও যাদবপুর শিরোনামে এল। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এমন অশান্তি কাম্য নয়। আমি আশা করব, দ্রুত যাদবপুরে যাতে উন্নতি হয়।’
অশান্তির বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন যে,'পড়ুয়াদের নিজস্ব উপায়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত এবং বাইরের হস্তক্ষেপ যত কম হয়, ততই মঙ্গল। দুর্গাপূজার মতো সামাজিক উৎসবে যেভাবে দলীয় রাজনীতি জড়াতে দেওয়া হয় না, ঠিক তেমনি যাদবপুরের পরিবেশ শান্ত রাখতে সব রাজনৈতিক দলেরই উসকানি থেকে দূরে থাকা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।'
যাদবপুরের ঐতিহ্যের প্রতীক নন্দলাল বসুর তৈরি শিল্পকর্মটির প্রতিকৃতির অসম্মানও কাম্য ছিল না বলেও জানান স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘সবথেকে খারাপ লেগেছে যাদবপুরের এমব্লেমটা সেটাকে নিয়ে। শ্রীরাম ধ্বংস হয়ে গেল। ধ্বংস হয়তো হয়নি ওটাকে রিপেয়ার করা যাবে। তবে অসম্মান করা হয়েছে সেই বিষয় সন্দেহ নেই। নন্দলাল বসু তৈরি করেছিলেন। নন্দলাল বসু কেন তৈরি করেছিলেন যাদবপুরের ইতিহাসটা আমাদের যাদবপুরের ইতিহাস স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে অতপ্রতভাবে জড়িত।’
ইতিমধ্যে যাদবপুর কাণ্ডে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার দুপুরে ই-মেল করে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে খবর।
ঘটনায় বারংবার উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ। এমনকি ঘটনার সময় বা তার পরেও প্রশাসনিক কর্তাদের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সন্ধ্যার পর জানা যায়, গোটা ঘটনার তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করছে কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসের সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তুলে দেওয়া হবে ওই তদন্ত কমিটির হাতে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে উপযুক্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।