কলকাতা, নিউজ ডেস্ক : মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশ জুড়ে চলছে বিক্ষোভ। রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজধানী দিল্লি। বন্ধ মুম্বাইয়ের একাধিক এলাকা। অপরদিকে কলকাতাতেও চলছে বামেদের বিক্ষোভ। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশ জুড়ে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বিক্ষোভ। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য থেকে দেশ।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক আন্দোলনকারীদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। সেই আবহেই ২ অক্টোবর অর্থাৎ গান্ধী জয়ন্তীর দিন দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা সহ একাধিক জায়গায় পথে নেমেছে বিভিন্ন বিরোধী সংগঠন। সমস্ত দিক থেকে একটাই দাবি উঠে এসেছে অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।
রাজধানী দিল্লিতে আগে থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যন্তর মন্তরের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। নয়া দিল্লিতে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, ধর্না ও বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সর্বত্র। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। এমনকি দিল্লি মেট্রোর ১১ টি স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ রাখা হয়েছে।
কিন্তু তারপরেও এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যন্তর মন্তরের কাছে বিক্ষোভে নামেন AAP-সহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা। দিল্লি AAP সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ-সহ একাধিক বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায়।
অপরদিকে মুম্বাইয়েও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একাধিক জায়গায় রয়েছে মুম্বাই পুলিশের কড়া নজরদারি। ২ অক্টোবরের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি তথা সিজেপি। দাদারের শিবাজি পার্কে কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে আন্দোলনের সূচনা করার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। CJP নেতা অভিজিৎ দীপকের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পুলিশের অনুমতি না মেলায় ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জায়গায় মোতাইন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
দিল্লি-মুম্বাইয়ের পাশাপাশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মহানগরী কলকাতাও। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের বিরুদ্ধে সরব বামেরা। CPI(M)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার কলকাতায় বাম দলগুলির মিছিল বের হয়। সেখানে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ২ থেকে ৮ অক্টোবর দেশ জুড়ে প্রতিটি জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’র যে ডাক দিয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া মঞ্চ, তারই অংশ স্বরূপ বাম দল সংগঠনগুলির ডাকে শুক্রবার প্রথমে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে জমায়েত হয়েছে। সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোহনদাস কর্মচন্দ গান্ধীর মূর্তি পর্যন্ত এই মিছিল করেন বাম নেতৃত্ব। বামেদের দাবি জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরাতে হবে, অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এসআইআর এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের নাম পুনর্বহাল করতে হবে। রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “বহু আন্দোলনের পরে স্বাধীনতা মিলেছিল। সেই স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ছিল সংবিধান। আজ সেই সংবিধানের উপরেই আঁচ এসেছে। সংবিধানকে শেষ করা হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমারকে বসিয়ে সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে SIR নিয়ে বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে গান্ধী জয়ন্তীর দিনেই নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপ। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে দেশ জুড়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।
