ছাত্র আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়েছিল দিল্লি। প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলনের ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ছাত্রদের দাবি মেনে শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সোমবার সংসদে আসার পরেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সংবর্ধনা জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদরা। মঙ্গলবার এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ট্রেজারি বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, 'উনি কি সুপারম্যান!' এ বিষয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর অভিযোগ, ছাত্রদের দাবির মুখে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। এরপর সেই শিক্ষা মন্ত্রীকেই সাংসদরা সংবর্ধনা দিচ্ছেন। এরই পাশাপাশি বিলকিস বানো মামলার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর জেরে কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে লোকসভা।
প্রিয়ঙ্কা গাঁধীর অভিযোগ, গত এক দশকে দেশে ১৫২ বার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তিনি স্পষ্ট জানতে চান, ছাত্রদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে তার অনুমতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহা দিয়েছিলেন কিনা। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই মন্তব্যের পরেই সরগোল পড়ে যায়, লোকসভার অন্দরে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরীক্ষায় দুর্নীতি রুখতে পাবলিক এগজামিনেশনস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল পেশ করেছেন লোকসভায়। যে সংশোধনী বিলে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যদি কোন ব্যক্তি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে। এমত অবস্থায় লোকসভার সূচনা পর্বে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর যে অত্যাচার হয়েছিল তারই প্রতিবাদে বিরোধীরা সংসদের অন্দরেই সুর চড়ান। তবে বিরোধীদের দাবি, শুধু আইন কঠোর করলেই হবে না দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে।
এ বিষয়ে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব দাবি করেন, ছাত্রদের আন্দোলনে সরকার ভয় পেয়েছে। তাই চাপে পড়েই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছাত্রদের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তা কখনোই বাঞ্ছনীয় নয়। এনটিএ-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী সাংসদরা।
অপরদিকে বিজেপির হয়ে সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ দাবি করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শুধুমাত্র এনডিএ আমলের নয়। এটা ইতিপূর্বেও ঘটেছে। ইউপিএ সরকারের সময়েও কেন্দ্র ও কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিতে একাধিক প্রশ্নফাঁসের ঘটনার কথা লোকসভায় তুলে ধরেন তিনি। বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মঙ্গলবার লোকসভার অন্দরে একেবারে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইনের প্রস্তাবের পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গেও সরগরম হয়ে ওঠে লোকসভা।