সামরিক শক্তিবৃদ্ধিতে বড় পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকার। এবার ভারত সীমান্ত লাগোয়া উত্তর বাংলাদেশের বগুড়া জেলায় সামরিক ড্রোন তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে সে দেশের সরকার। তবে এক্ষেত্রে দেশটিকে নানাভাবে সাহায্য করছে তুরস্ক। জানা গিয়েছে, দুই দেশের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি নতুন বিমানঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘোষণার পর থেকেই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কৌশল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বগুড়া বিমানবন্দরের সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পের সুবিধার্থে বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। কৃষিযন্ত্র উৎপাদনের জন্য পরিচিত বগুড়াকেই এই প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাটের পুরানো সামরিক বিমানঘাঁটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রকল্পে চিনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা থাকতে পারে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর আধুনিকীকরণের কাজও চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং চিনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলেও বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। গত কয়েক মাসে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকও দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে জল্পনা বাড়িয়েছে।
ভারত সরকার এখনও এই বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক কৌশলগত পরিবর্তনের উপর নিবিড় নজর রাখছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদেশি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।