বাঁকুড়া, রেশমি ব্যানার্জি - স্কুলের বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ছেলে। স্কুল বাঁচানোর দাবিতে আন্দোলনেও যোগ দিয়েছিলেন। আর সেই প্রতিবাদের পরই বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাবা। বাঁকুড়ার ইন্দাসের করিশুন্ডায় শেখ মহম্মদ মাফিকের মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
অভিযোগ, স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি দিল্লির সিজেপি আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পরই সিজেপি সমর্থক শেখ আবদুলকে বিজেপির হুমকির মুখে পড়তে হয়। স্থানীয় স্কুলের পরিকাঠামোগত ত্রুটির কথা তুলে ধরার পরেই হাফিজের বাড়িতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর ভাবে জখম হয় তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক। প্রথমে বাঁকুড়ার ইন্দাসে ও পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ৫১ বছর বয়সী মাফিকের।
এই ঘটনার পর থেকেই করিশুন্ডায় নেমেছে শোকের ছায়া। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়েছে। সোমবার, মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তৃণমূল ও সিপিএমের বিভিন্ন নেতারা বাঁকুড়ায় আসেন। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখতে হবে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে গুন্ডার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তিনি জানান, পরিবার ক্ষতিপূরণ চাইছে না, তাঁদের দাবি একটাই, রাজ্যের স্কুল গুলির পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত করা হোক।
এছাড়াও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিজেপি নেতৃত্ব। এ বিষয়ে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, 'পুলিশ থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বিজেপির গুন্ডাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত তা এর মধ্য দিয়ে পরিষ্কার। কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা সত্বেও তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়নি। বাংলার পুলিশকে দশ দিন সময় দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তা না হলে জেলা কার্যালয়ে ঘেরাও করা হবে।' এর পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে আস্থা দিয়ে বলেন, ‘আপনারা কাউকে ভয় পাবেন না। প্রয়োজনে নিজেদের আশেপাশের স্কুলগুলো ঘুরে দেখুন যা সমস্যা তা আমাদের সামনে তুলে ধরুন। স্কুল বাঁচানোর জন্য আমাদের যে লড়াই তা চলবে।’
শুধু রাজনৈতিক চাপানউতোর নয় এই ঘটনায় সামনে এসেছে পরিবারের এক অন্য দাবি। মৃতের ছেলে শেখ আবদুল হাফিজ জানিয়েছেন, ‘আমাদের কোনও ক্ষতিপূরণ চাই না। প্রয়োজন রাজ্যের স্কুলগুলোর উন্নতি। যে টাকা আমাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে সেই টাকা দিয়ে রাজ্যের স্কুলগুলোর উন্নতির ব্যবস্থা করা হোক।’
অর্থাৎ একদিকে বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা অন্যদিকে স্কুলের বেহাল দশা বদলের দাবি- করিশুন্ডার এই ঘটনায় এইসাথে দুই বিষয়ই সামনে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ কি, হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কেন এখনও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি-উত্তর খুঁজছে পরিবার ও স্থানীয় মানুষ। সবার নজর এখন পুলিশ ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।