কলকাতা, কেয়া মণ্ডল: আরজি কর-কাণ্ডে নিহত নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ ৷ এবার ২টি মামলায় সঞ্জীবকে জামিন মঞ্জুর করল আদালত। তবে খড়দহ থানায় দায়ের হওয়া একটি পৃথক মামলায় তাঁকে ৮ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ফলে জামিনের পরও কেন তাঁকে জেলে থাকতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুন করা হয় ৷ সেই ঘটনা তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল রাজ্য-রাজনীতিতে। এবার অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। বিশেষ করে মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তারপর উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ থানায় এফআইআর করেছিলেন আরজি করের নিহত চিকিৎসক-ছাত্রীর বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মল ঘোষ ছাড়াও স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম এফআইআরে রয়েছে।
অভিযোগ দায়ের হতেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয় পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয় সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে। আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে ঘটনার পর দ্রুত দেহ সৎকার করা এবং সেই প্রক্রিয়ায় কারা উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। নিহত চিকিৎসকের বাবা-মায়ের অভিযোগ ও তাঁদের বিভিন্ন চিঠিতেও কয়েকজনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সেই সূত্রেই সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নামও আলোচনায় আসে।
অভিযোগ,ঘটনার পর নিহত চিকিৎসকের দেহ দ্রুত সৎকারের ক্ষেত্রে সঞ্জীবের ভূমিকা ছিল। এই অভিযোগের তদন্তেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সেই মামলাতেই গ্রেফতারির পর আদালতে তোলা হলে সঞ্জীবকে নিয়ে শুনানি হয়। তবে আদালতে দুটি মামলায় জামিন মঞ্জুর হলেও তাঁর মুক্তির পথ সঙ্গে সঙ্গে খুলছে না।