দিল্লিতে প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে ছাত্রদের উপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে শাহের কাছে বিবৃতি দাবি করেছিল বিরোধীরা। শাহ অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকায় বিরোধী সাংসদদের বিক্ষোভের জেরে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে যায় লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন।
এই ইস্যুতেই অমিত শাহের বিরুদ্ধে সুর চড়ান রাহুল গান্ধীও। সোমবার তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলার পাশাপাশি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবমূর্তি ইতিমধ্যেই ‘ধ্বংস’ হয়ে গিয়েছে এবং তা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। অবশেষে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ইস্যুতে সংসদে বিবৃতি দেবেন স্বয়ং অমিত শাহ। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, ছাত্রদের সঙ্গে সম্পর্কিত সব বিষয় নিয়ে আলোচনায় সরকার প্রস্তুত। বিরোধীরা যে বিষয়গুলি তুলবেন, সরকার তার জবাব দেবে। তিনি বলেন, ‘সরকার ছাত্রদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। বিরোধীরা যে সমস্ত বিষয় তুলবেন, আমরা তার জবাব দেব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দেবেন।’
এদিন বিরোধীদের আক্রমণের কেন্দ্রে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে একটি শব্দও শোনা যায়নি। তাঁর দাবি, রাজধানীর বুকে ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ এবং ছররা গুলি চালানোর অভিযোগের জবাব অমিত শাহকে দিতেই হবে। ছাত্রদের পাশে থাকার বার্তাও দেন রাহুল।
তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনও শাহকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিদিন সংসদে এসে নিজের ঘরে বসে থাকছেন, কিন্তু অধিবেশন কক্ষে আসছেন না। মঙ্গলবার শাহ সংসদে এলে ছাত্র নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে বিবৃতি দাবি করা হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ ২০২৩ সালের সংসদে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ তুলে শাহের বিরুদ্ধে ফের নীরবতার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সে সময়ও বিরোধীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছিল, কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। একই ভাবে ছাত্রদের উপর পুলিশের হামলার অভিযোগের ক্ষেত্রেও শাহ নীরব রয়েছেন বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। এই আবহে কেন্দ্রের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল যে, সংসদে বিবৃতি দেবেন শাহ।