বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে শেষ রক্ষা হলো না। পুলিশের জালে ধরা পড়লেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবার কুখ্যাত তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝড়ো। এলাকায় তিনি 'জীবনতলার শাহজাহান' নামেই পরিচিত ছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জীবনতলা থানার পুলিশ খাগড়া গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঝড়ো ও তার সহযোগী মনিরুল পৈলানকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে দুটি বেআইনি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে তুলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়েছে পুলিশ।গোসাবা ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি এই ঝড়োর বিরুদ্ধে রয়েছে ভুরি ভুরি অভিযোগ। একসময় ছাগল ও মুরগি বিক্রি করে কোনো রকমে সংসার চালানো এই ব্যক্তির ভাগ্যবদল হয় তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর। এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিঘার পর বিঘা জমি দখল, মাছের ভেড়ি তৈরি, তোলাবাজি ও ১০০ দিনের কাজের কাটমানি খেয়ে তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হন বলে অভিযোগ। বর্তমানে তাঁর রয়েছে ৬৪ বিঘা জমি, যার মধ্যে ২৪ বিঘার ওপর বাগানবাড়ি এবং ৪০ বিঘার ওপর মাছের ভেড়ি রয়েছে। শুধু গোসাবাতেই রাজপ্রাসাদোপম বাড়ি বা পার্টি অফিস নয়, কলকাতা ও শহরতলিতেও তাঁর একাধিক বিলাসবহুল সম্পত্তি রয়েছে।
সম্পত্তি লুট ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর অত্যাচারের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে হিন্দু মহিলাদের জোরপূর্বক বিয়ে ও নির্যাতনের মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে গোসাবার 'বেতাজ বাদশা' হয়ে ত্রাসের রাজত্ব চালানো এই দাপুটে নেতার গ্রেপ্তারে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।