পুরুলিয়া, নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে ঠিক কি ঘটেছিল মন্দিরের ভিতর? ভোরবেলায় দরজা খোলার পর সামনে আসে সেই রহস্য। প্রতিদিনের মতো মন্দিরে পৌঁছে প্রথমে কিছুটা অস্বাভাবিক ঘটনার টের পান মন্দিরের সেবাইতরা। এরপর মন্দিরের ভিতরে ঢুকতেই এমন দৃশ্য সামনে এল, যা দেখে তাঁদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে মন্দির চত্বরে জড়ো হয় স্থানীয়রা।
পুরুলিয়া জেলার সেরা তথা রাজ্যের মধ্যে অন্যতম পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের মৌতড়ের বিখ্যাত জাগ্রত মা বড় কালীর মন্দিরের মা বড়কালীর গায়ের গণনা চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে মন্দিরের গেটের তালা কেটে ভিতরে ঢুকে দুস্কৃতিরা। এরপর মা বড়কালীর গায়ে থাকা একাধিক মূল্যবান গয়না চুরি করে পালিয়ে যায় তাঁরা। ঘটনায় খবর পেয়েই শুক্রবার সকালে এলাকার বাসিন্দারা মন্দিরের চত্বরে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
জানা যায়, শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের মতোই নিয়মমাফিক মাকে স্নান করানোর জন্য মায়ের সেবাইতগণ মায়ের মন্দিরে আসেন। মন্দিরের গেটের কাছে পৌঁছতেই তাঁরা দেখেন মন্দিরের গেটের তালা কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। বিষয়টি দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। ভিতরে ঢুকে তাঁরা দেখতে পান মায়ের গায়ের সমস্ত গহনা চুরি করে নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এরপরই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান রঘুনাথপুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে যান রঘুনাথপুরের SDPO রোহেদ শেখ,থানার আই সি অতনু সাঁতরা সহ পুলিশের একাধিক আধিকারিকগণ। মন্দির চত্বর খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কিভাবে দুষ্কৃতীরা সেখানে ঢুকেছিল, কতক্ষণ সেখানে ছিল এবং কোন পথে পালিয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। এলাকার বাসিন্দারা অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আনুমানিক ১৯ লক্ষ টাকার গহনা চুরি গিয়েছে। সেগুলির মধ্যে বেশিরভাগটাই রুপোর গহনা। তারমধ্যে রয়েছে সোনার জলে রং করা রুপোর মুকুট, মুন্ডমালা, ডাকের সাজ এবং সোনার টিকলি রয়েছে। তবে, ঠিক কতগুলি গয়না চুরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
মৌতড়ের মা বড় কালীর মন্দিরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর ধর্মীয় আবেগ রয়েছে। ফলে, মন্দিরে চুরির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভ তৈরি হয় এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত দুষ্কৃতিদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করতে হবে এবং চুরি যাওয়া সমস্ত মায়ের গয়না সামগ্রী উদ্ধার করতে হবে। ইতিমধ্যেই মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আশেপাশের এলাকার পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাতের ওই ঘটনায় কারা জড়িত তাঁদের শনাক্ত করায় এখন প্রশাসনের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ।
