জলপাইগুড়ি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি জমি জবরদখল করে নির্মিত বিতর্কিত নাগরিক পরিষেবা কেন্দ্রটি অবশেষে নিজেই ভেঙে ফেললেন সংশ্লিষ্ট এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর সন্দীপ ঘোষ। সরকারি জায়গায় অননুমোদিতভাবে এই দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলার প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে জলপাইগুড়ি সদর মহকুমা শাসক তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ করেন এবং পুরসভার তরফে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে কাঠামোটি সরিয়ে ফেলার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে নোটিশ জারি করা হয়। প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই হাতুড়ি হাতে তুলে নিয়ে সেটিকে ভেঙে ফেলতে বাধ্য হন কাউন্সিলর।
তবে ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটেনি। তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি জমি দখলের তোপ দেগেছে বিরোধী দল বিজেপি। অন্যদিকে, শাসকদলের এই উদ্যোগের মাঝে আরও এক আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। এলাকা নিবাসী এক ব্যক্তির দাবি, ওই কার্যালয় নির্মাণের কাজে যে টিন ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়েছিল, তার বকেয়া মূল্য এখনও তাঁকে মেটানো হয়নি। এই সূত্রেই কাউন্সিলর সন্দীপ ঘোষ বলেছেন--"এটা নিয়ে জনাসাতেক মানুষের অবজেকশন ছিল।ওরা কোর্টের কাছে যান।কোর্ট এটা ভাঙতে বলে তাই,আইনের পথে চলে,আমি নিজেই এটা ভেঙে দিয়েছি।" সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল--'এটা ভাঙতে হল কেন?' প্রশ্নের উত্তরে কাউন্সিলর বলেন--এটা নিয়ে কার কী সমস্যা জানি না। কার কী স্বার্থ জানি না।তবে কোন রাজনৈতিক সমস্যার জন্য নয়। কারো ব্যক্তিগত সমস্যা থাকতেই পারে।"
প্রশাসনের চাপে তড়িঘড়ি কার্যালয় ভাঙার সিদ্ধান্ত নিলেও, বকেয়া অর্থ আদায় এবং সরকারি জমির সুরক্ষার দাবিতে স্থানীয় রাজনীতি এখন যথেষ্ট উত্তপ্ত।এই প্রসঙ্গে যদিও কাউন্সিলর বলেছেন-- ‘ভগবান যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন।’
তবে,রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের এই প্রবণতা আবারও তীব্র প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে।