ওড়িশা, নিউজ ডেস্ক: সেতুহীন সুন্দরগড়ে জীবনের ঝুঁকি, উত্তাল নদী পেরিয়ে শিশুকে কাঁধে নিয়ে ভরা নদী পেরিয়ে ফিরলেন বাবা।বর্ষা এলেই চারপাশের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় গোটা এলাকা। যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশায় ফের একবার চরম বিপদের মুখে পড়লেন ওড়িশার সুন্দরগড় জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দারা। সম্প্রতি জেলার কয়দা ব্লকের কে. বলাং পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বকরাতোলা ও গধাতোলা এলাকা থেকে প্রকাশ্যে আসা এক দৃশ্য প্রশাসনিক অবহেলার করুণ ছবি তুলে ধরেছে।
স্থায়ী সেতুর অভাবে ফুঁসতে থাকা নদী পার হতে গিয়ে কাঁধের ওপর দুমাসের দুধের শিশুকে নিয়ে বুকসমান জল পেরোতে বাধ্য হলেন এক বাবা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকরাতোলা এলাকার এক শিশুর প্রচণ্ড জ্বর আসায় তাকে চিকিৎসার জন্য কে. বলাং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নদী উপচে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হলেও বাড়ি পৌঁছনোর আর কোনো বিকল্প পথ ছিল না। ফলে ওই একরত্তি শিশুকে কাঁধে তুলে নিয়েই উত্তাল নদী পার হতে হয় পরিবারটিকে। শুধু তাই নয়, একই সাথে অপর এক নাবালিকা এবং শিশুর মাকেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে জলের প্রবল তোড় ঠেলে পার করানো হয়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদীর জলস্তর বেড়ে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলি পুরোপুরি যোগাযোগহীন হয়ে পড়ে। সবচেয়ে মারাত্মক সংকটে পড়তে হয় চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে। অতীতে রোগীদের খাটিয়ায় শুইয়ে নদী পার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি মৃত্যুর পর মৃতদেহ সত্কারের জন্যও এই বিপজ্জনক পথই বেছে নিতে হয়। এছাড়া রেশন কার্ডের চাল আনতেও নদী পারাপারে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ে স্থানীয়দের।
স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের দাবি, 'এই নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর জন্য সরকারের কাছে বহুবার গণশুনানিতে আবেদন জানানো হয়েছে। নদীতে ডুবে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটার পরেও প্রশাসন কোনো কর্ণপাত করেনি।' প্রাথমিক যোগাযোগের ন্যূনতম অধিকারটুকু পেতে আর কতদিন গ্রামবাসীদের এভাবে জীবন বাজি রাখতে হবে, তা নিয়েই এখন তীব্র ক্ষোভ গোটা এলাকায়।