স্ত্রীকে বাঁশের খুটিতে বেঁধে আগুনে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে মালদহের মানিকচক থানার নরপুর এলাকায়। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করাতে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয় এই তরুণীকে। মৃত তরুণীর নাম চুন্নি খাতুন। বয়স আনুমানিক ২০ বছর।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মৃতার স্বামী সামিউল শেখ। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর স্বামী সামিউল শেখ নিয়মিত এক তরুণীর সাথে ভিডিও কলে কথা বলতেন। সেই দৃশ্যই দেখে ফেলেছিলেন স্ত্রী। এর প্রতিবাদও করেন তিনি এবং ওই সময় রাগের মাথায় মাটিতে আছাড় মেরে দেয় স্বামীর ফোন। এর ফলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে যায়। তাতেই রেগে গিয়ে স্ত্রীকে বাঁশের খুটির সাথে বেঁধে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
গত ২০-শে জুলাই ঘটে এই ঘটনা। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর প্রানে বাঁচলেন না তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, চুন্নির বাপের বাড়ি বিহারের কাটিহার জেলার বাইরিয়া এলাকায়। কয়েক বছর আগে মালদহের নরপুর গ্রামের ব্যবসায়ী সামিউল শেখের সাথে সম্বন্ধ করে বিবাহ হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সব ঠিকঠাক চলে কিন্তু পরে চুন্নি তার স্বামীর পরকীয়ার কথা জানতে পারলে অশান্তি হয়। যার ফলস্বরূপ এই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
তবে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা এই তরুণীর শনিবার বার্ন ইউনিটে মৃত্যু হয়। এরপরেই তার পরিবারের তরফ থেকে মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। মৃতার স্বামী সামিউল শেখ, দেওর আনেস শেখ, ননদ চামেলী বিবি ও শাশুড়ি দিলনুর বিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা সবাই পলাতক। মৃতার পরিবার জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।