কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: আরজি কর ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা! আদালতে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন অভয়ার পরিবার। পরিবারের দাবি, 'মেয়ের মৃত্যুর পর ভয় দেখানো হয়েছিল। এমনকি বন্দুক দেখিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে এবং টাকা নিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে আরজি কর মামলায় ফের সিবিআই রিপোর্ট জমা পড়ে। মামলার শুনানিতে অভয়ার পরিবারের তরফে দাবি করা হয়, ঘটনার পর তাঁদের উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। পরিবারের বক্তব্য, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখানো এবং মামলা সংক্রান্ত বিষয় থেকে সরে আসার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরিবারের তরফে আরও দাবি করা হয়, টাকা নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাবে তাঁরা রাজি হননি বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার কথা খড়দা থানাতেও জানানো হয়েছিল। যে আগ্নেয়াস্ত্রটি দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে, সেটি পরবর্তীকালে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়। অভয়ার পরিবারের আরও বক্তব্য, বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থার নজরে আনার পরও শুরুতে তাঁরা প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাননি।
পরিবারের সদস্যদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে। এখনও পর্যন্ত তাঁদের ১৬৪ ধারায় বয়ান রেকর্ড করা হয়নি বলে পরিবারের দাবি। একই সঙ্গে খড়দা থানার আইসি এবং মামলার তদন্তকারী আধিকারিককে পরবর্তী শুনানিতে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ২০ নভেম্বর। তার আগে ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাঁকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে খুন করা হয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসতেই গোটা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। প্রথমে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ এবং সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। আরজি কর কাণ্ডে দুই বছর পার। এখনও চলছে তদন্ত। রাজ্যে পালা বদলের পর নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই।
