নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর বুকে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই সামনে এল এক মর্মান্তিক ঘটনা। রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে এবার জড়িয়ে পড়লো একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোকও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের অভিযোগ গোটা পরিস্থিতিতে মানবিকতার বদলে গুরুত্বপূর্ণ পেয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েন। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কে ঘিরে এই বিতর্ক এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দিদিমার মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই দিল্লী পুলিশের বিরুদ্ধে 'তুচ্ছ রাজনীতি' করার অভিযোগ তুলল সিজেপি। দলের দাবি, অভিজিৎকে আটক করার পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের সদস্য কিংবা দলের আইনজীবীদের কিছু জানানো হয়নি। এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিজেপির বক্তব্য, একজন ব্যক্তিকে আটক করার পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে পরিস্থিতির মানবিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। দলের অভিযোগ, অভিজিৎ এর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তাঁর পরিবারের উদ্বেগ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাঁরা।
সূত্রে খবর, অভিজিতের ৮৫ বছর বয়সী দিদিমা সাবিত্রীবাই শঙ্করাও দীপকে শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সান্তুক পিম্পরি গ্রামের বাড়িতে মারা যান। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। রবিবার সকাল দশটায় তাঁর শেষকৃত্য হওয়ার কথা। তবে, পুলিশ সূত্রে দাবি, অভিজিৎ কে তাঁর দিদিমার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। শেষকৃত্যে যোগ দিতে চাইলে তাঁকে মহারাষ্ট্রে ফেরার ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। ফলে, এই ঘটনা নিয়ে সিজেপির অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তরমন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাঁকে এবং আরও দুই নেতাকে আটক করা হয়েছিল। এই আটক ও পারিবারিক শোকের ঘটনা মিলিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে।