নয়াদিল্লি: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই সামনে এল দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের একটি পূর্ব-রেকর্ড করা ভিডিও। শনিবার, ১০ অক্টোবর, দিল্লিতে পৌঁছনোর পর অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে CJP। আর তাঁদের আটক হওয়ার পরই আন্দোলনের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দীপকে। তাঁর নির্দেশ, শীর্ষ নেতৃত্ব আটক থাকলেও থামানো যাবে না বিক্ষোভ।
CJP-র এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকে জানান, তাঁকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হলে আন্দোলনের দায়িত্ব সামলাবেন অজিঙ্ক শিন্ডে। দলের অর্গানাইজেশন ইনচার্জ অজিঙ্কের নেতৃত্বেই যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি। দলের দাবি, সম্ভাব্য গ্রেফতারির আশঙ্কায় শুক্রবার রাতেই ভিডিওটি রেকর্ড করে রেখেছিলেন দীপকে।
https://x.com/GurpreetArora_/status/2108824068631974325?s=20
ভিডিও বার্তায় দীপকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, তাঁরা যেন যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যান। পুলিশ যেখানে বাধা দেবে, সেখানেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকার তাঁদের ঐক্যকে ভয় পাচ্ছে। তাই আটক বা গ্রেফতারির মতো পদক্ষেপের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া জরুরি।
দীপকের এই বার্তার পর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে অজিঙ্ক শিন্ডের নাম। কে এই অজিঙ্ক, যাঁর হাতে আন্দোলনের দায়িত্ব তুলে দিলেন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা?
কে অজিঙ্ক শিন্ডে?
মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা অজিঙ্ক শিন্ডে দীর্ঘদিন ধরেই অভিজিৎ দীপকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ২০১৬ সালে গোয়ায় তাঁদের প্রথম পরিচয় হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতাও রয়েছে। অতীতে আম আদমি পার্টির মহারাষ্ট্রের সোশ্যাল মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। গোয়ার নির্বাচনী প্রচারেও দলের হয়ে যুক্ত ছিলেন অজিঙ্ক। পরে মহারাষ্ট্রে সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত দায়িত্ব সামলান।
পরবর্তীকালে ককরোচ জনতা পার্টি গঠিত হলে অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে সেই সংগঠনে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে দলের অর্গানাইজেশন ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অজিঙ্ক।
আটক হলেও আন্দোলন চলবে?
CJP-র ঘোষণায় স্পষ্ট, অভিজিৎ দীপকে ও অন্য শীর্ষ নেতারা হেফাজতে থাকাকালীন অজিঙ্ক শিন্ডেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন। দলের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
এখন নজর, নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর দিল্লির বিক্ষোভ কোন পথে এগোয় এবং আটক নেতাদের মুক্তি নিয়ে পরবর্তী পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়।
