নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে ফের তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবিলম্বে পদ থেকে সরানো এবং আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি তুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কোনও একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যদি বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকে, তা হলে বিষয়টি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুতর।
অভিষেকের দাবি, এই ঘটনায় যাঁরা দায়ী, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার সংশোধন ঘিরে ওঠা প্রশ্ন।
পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, SIR-এর সময় বিপুল সংখ্যক ভোটারকে নথি যাচাইয়ের জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রায় ১.৪ কোটি ভোটারকে নোটিস দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছিল। তাঁদের মধ্যে ‘logical discrepancy’ সংক্রান্ত একটি বড় অংশের ভোটারও ছিলেন।
এই প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া বা অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপিলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপত্তি ও দাবি খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে আপিলের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালও গঠন করা হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর INDIA জোটের বিভিন্ন বিরোধী দল প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের কাছে চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। চলতি বছরের জুনেও ২৩টি বিরোধী দল এবং এক জন নির্দল সাংসদ SIR এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তৎকালীন প্রধান বিচারপতির কাছে যৌথ চিঠি দিয়েছিলেন।
অভিষেকের অভিযোগ, এত গুরুতর প্রশ্ন ওঠার পরও যদি তার যথাযথ পর্যালোচনা না হয়, তা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে না এবং শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি এখনও চলছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন আদালতকে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর আওতায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বা নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ৩৭ লক্ষেরও বেশি আপিল এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে বাদ পড়া প্রায় ১.২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশের আপিল সফল হয়েছে এবং তাঁদের ভোটার তালিকায় ফের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে SIR নিয়ে মতপার্থক্যের অভিযোগ ঘিরেও রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার SIR-এর বিভিন্ন বিষয়ে একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে এই দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছে।
ফলে প্রশ্ন এখন একটাই,ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং SIR-এর পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আগামী দিনে কী নির্দেশ দেয়? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কাছ থেকেই এবার কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা রয়েছে।
