নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI-তে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের সদস্যপদ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে সক্রিয় হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটিতে ওই সাংসদদের জায়গা না দেওয়ার আবেদন জানিয়ে ফের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে লোকসভায় তৃণমূলের জন্য আগের মতো একটি স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানের পদ রাখার দাবিও জানিয়েছেন অভিষেক।
লোকসভা সচিবালয়ের তরফে তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলিতে দলের সাংসদদের নামের প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই তালিকা জমা দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই ২০ জন NCPI সাংসদকে নিয়ে স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন অভিষেক।
এই ২০ জন সাংসদের মধ্যে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ একাধিক সাংসদ। লোকসভা সচিবালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁদের সংসদীয় পরিচয় নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে তাঁরা কোন স্ট্যান্ডিং কমিটিতে থাকবেন, সেই প্রশ্নও জটিল হয়ে উঠেছে।
অভিষেকের তরফে আগেই এই ২০ সাংসদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন জানিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে পৃথক পৃথক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকারের দফতর থেকে ওই সাংসদদের নোটিসও দেওয়া হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর NCPI সাংসদরা আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়েছেন বলে খবর। তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র একত্র করতে আরও সময় লাগছে।
এই আবহেই বিষয়টি পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে দাখিল করা সদস্যপদ খারিজের আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বিষয়টি শুনেছে। আদালত স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে না দিলেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে।
শুনানিতে আদালতের তরফে তিন মাস ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, এই বিলম্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, কারণ এর প্রভাব অন্যান্য সংসদীয় ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপরও পড়তে পারে। তবে স্পিকার একটি সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হওয়ায় তাঁকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার বদলে বিষয়টির অগ্রগতি আদালত নজরে রাখবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে NCPI-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের বক্তব্য, তাঁদের দলত্যাগ আইনসঙ্গত এবং তাঁরা বৈধ সংযুক্তির ভিত্তিতেই নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। ফলে তাঁদের সংসদীয় মর্যাদা এবং সদস্যপদ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ও তাঁদের নিজেদের বক্তব্যের মধ্যে বিরোধ এখনও বহাল।
এর মধ্যেই স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন নিয়ে অভিষেকের নতুন চিঠি গোটা বিতর্ককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কারণ ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমিটিগুলিতে সাংসদদের নাম প্রস্তাব করার সময়সীমা রয়েছে। ফলে তার আগেই ২০ সাংসদের অবস্থান স্পষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সব মিলিয়ে একদিকে সুপ্রিম কোর্টে সদস্যপদ খারিজের মামলা, অন্যদিকে লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটিতে সাংসদদের অন্তর্ভুক্তি—দুই ক্ষেত্রেই এখন নজর স্পিকার ওম বিড়লার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিষেকের নতুন চিঠির পর NCPI সাংসদদের সংসদীয় ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।
