নিউজ ডেস্ক : রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা, দলও আলাদা। কিন্তু, যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার নজর কাড়লো দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের নেতার বক্তব্য। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজনৈতিক মহল। রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদ স্থলকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সীমা কোথায় এবং জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদ জানালে তার পরিণতি কি হতে পারে? ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সমাজমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এবার সেই বিতর্কে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও। শুধু প্রতিক্রিয়াই নয়, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য অভিষেককে প্রকাশ্যেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হওয়া সত্বেও যন্তর মন্তর বিতর্কের আবহে দুই রাজনৈতিক শিবিরের এই প্রতিক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর উপর কেন্দ্রীয় সরকারের বিধি নিষেধ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সূত্রে খবর, যন্তর মন্তরকে সরকারিভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নির্ধারিত স্থানগুলির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণার পর মঙ্গলবার সেখানে প্রতিবাদ জানান সিজেপি নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক শিণ্ডে। অভিযোগ, যন্তর মন্তরের গেট টপকে ভিতরে ঢুকে তাঁরা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এই ঘটনায় সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে, অজিঙ্ক শিণ্ডে ছাড়া পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে, আদালত সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পোস্টে কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে লেখেন, নিজের দেশে তেরঙ্গা ওড়ানোর জন্য ভারতীয়দের গ্রেফতার করা হচ্ছে আর কেন্দ্রীয় সরকার সেটিকে শান্তিভঙ্গের ঘটনা হিসেবে দেখছে। বিজেপিকে নিশানা করে তিনি লেখেন, "বিজেপির পাকিস্তানোচিত ভারতে স্বাগত।" তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, অভিষেকের পোস্টটি রিপোস্ট করে সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতারের বিরুদ্ধে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনায় তাঁদের বক্তব্যের মিল বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকার, সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। আপাতত অভিষেকের প্রতিবাদ এবং অভিজিৎ দীপকের ধন্যবাদ জ্ঞাপনই সমাজ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
