স্পোর্টস ডেস্ক: রুদ্র রূপ ধরে তান্ডব চালিয়েছিলেন তিনি। ৩০ বলে দ্রুততম শতরান পূর্ণ করার পর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সেই মহাদেবের ভঙ্গিতেই ধ্যানে বসে বিশেষ উদযাপন করেন অভিষেক শর্মা। যে দৃশ্য নজর কেড়েছিল সকলেরই। ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ আবহে অভিষেকের এই উদযাপন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছিল কৌতূহল। এ বার সেই রহস্যের পর্দা তুললেন অভিষেকের বাবা রাজকুমার শর্মা। জানিয়ে দিলেন, ছেলের জীবনে ধ্যান এবং ক্রিকেট, দুই-ই এখন অবিচ্ছেদ্য।
বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৩৪ বলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন অভিষেক। মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর পরের ৫০ রান করতে তাঁর লেগেছে মাত্র ১৪ বল। ইনিংসে ছিল ৯টি চার এবং ১১টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ৩১৭.৬৫। ৩০ বলে শতরান করে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলির মধ্যে দ্রুততম শতরানের নজির গড়েন বাঁহাতি ভারতীয় ওপেনার। এর আগে পূর্ণ সদস্য দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে ৩৩ বলে শতরানের রেকর্ড ছিল জিম্বাবুয়ের সিকন্দর রাজার এবং নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেনের। ভারতের হয়ে দ্রুততম শতরানের নজিরও ভেঙে যায়। রোহিত শর্মার ৩৫ বলের রেকর্ড পেরিয়ে যান অভিষেক।
ছেলের এই সাফল্যের পিছনে কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি ধ্যানেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজকুমার। এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, অভিষেক নিয়মিত ধ্যান করেন। এমনকি ভোর চারটেয় উঠে মেডিটেশনও করেন। তাঁর কথায়, ক্রিকেটের মাঠ একটি গুরুদ্বারার মতো। যে তাকে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করে, সে ফল পায়। অভিষেকের মানসিক প্রস্তুতি যে কতটা গভীর, সেটাও বোঝা যায় বাবার কথায়। পরিবারের লোকজন বাড়িতে ডাকলেও অনেক সময় তিনি বাড়ি না ফিরে অনুশীলনেই ডুবে থেকেছেন।
রাজকুমারের কথায়, "ওর মধ্যে এতটাই জেদ এবং আবেগ রয়েছে যে এখন প্র্যাকটিস ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না।" তাঁর বিশ্বাস, এই পরিশ্রমই এক দিন অভিষেককে আরও বড় মঞ্চে নিয়ে যাবে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচেও সেই পরিশ্রমেরই ফল দেখা গিয়েছে। অভিষেক ও সঞ্জু স্যামসনের ঝড়ে প্রথম ১০ ওভারে ভারত তুলেছিল ১৪২ রান। পরে রান তোলার গতি কিছুটা কমলেও শেষ পর্যন্ত বড় স্কোর গড়ে ভারত। আর সেই জয়ের অন্যতম নায়ক অভিষেক। ব্যাট হাতে রেকর্ড গড়ে, শতরানের পর দেবাদিদেবের ধ্যানে বসে যেন জানিয়ে দিলেন, তাঁর ক্রিকেটযাত্রায় মনসংযোগই এখন মন্ত্র।