JAZZBAAT 24 বাংলা ডেস্ক: পার্ক স্ট্রিটে ফুটপাত জবরদখল মুক্ত করতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ফুটপাথ থেকে মানুষকে সরানোর অভিযানে মানবিকতার প্রশ্ন তুলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এবার তার জবাব দিলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, 'কোনও শিশুর মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি। বরং ব্যস্ত রাস্তার ধারে একটি শিশুকে হামাগুড়ি দিতে দেখা যাওয়ায় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সরে যেতে বলা হয়েছে।'
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, 'কলকাতার একাধিক জায়গায় রাস্তার ধারে কিংবা ফুটপাথে শিশুদের এমন অবস্থায় দেখা যায়। ব্যস্ত রাস্তায় এভাবে শিশুকে রাখা হলে যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেই দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।' তাঁর মতে, 'শুধু মানবিকতার কথা বললেই হবে না, পথচারীদের নিরাপত্তার কথাও ভাবতে হবে।' ফুটপাথ দখল ও ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'ফুটপাথ গরিব-বড়লোকের মধ্যে কোনও পার্থক্য করে না। সেখানে যাঁরা হাঁটেন, তাঁরা প্রত্যেকেই মানুষ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, ফুটপাথকে মানুষের হাঁটাচলার উপযোগী করে রাখা প্রয়োজন। ফুটপাথ মানুষের চলাচলের জন্য, স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য নয়।'
একইসঙ্গে গত ১৫ বছরের রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র আক্রমণ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর অভিযোগ, 'দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাথবাসীদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়নি। কর্মসংস্থান তৈরি না করে তোলাবাজি, ঘুষ এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই সরকারের আমলে সমস্যার সমাধান না করে এখন মানবিকতার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বলেও কটাক্ষ করেন মন্ত্রী।'
নতুন সরকারের কাজ নিয়েও বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, 'ফুটপাথ থেকে হকার সরানো, অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা কিংবা ফুটপাথকে বসবাসের জায়গা হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগে অনেকের অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু কারও সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার কাজ করবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।' শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মন্ত্রী। রাস্তা থেকে ড্রেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অক্টোবরের মধ্যে রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান অগ্নিমিত্রা পাল।