নিউজ ডেস্ক: রসনাতৃপ্তির ঐতিহ্য বহু প্রাচীন হলেও, আজকের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন বাঙালির ঘরোয়া হেঁশেল থেকে শুরু করে সারা দেশের পেটকেই ফেলে দিচ্ছে চরম ঝুঁকিতে। অনিয়মিত খাওয়া, প্রক্রিয়াজাত খাবারের বাড়বাড়ন্ত আর অনিদ্রার হাত ধরে নিঃশব্দে থাবা বসাচ্ছে নানা জটিল গ্যাস্ট্রো সমস্যা। সাধারণ গ্যাস-অম্বল বলে যাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়, তা অনেক সময়েই প্যানক্রিয়াটিক সংক্রমণ, গ্যাস্ট্রিক আলসার কিংবা প্রাণঘাতী ক্যানসারের রূপ নিচ্ছে। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান। কোলন ক্যানসারের মতো রোগ একেবারে প্রাথমিক স্তরে ধরে ফেলতে এন্ডোস্কোপি ও কোলনস্কোপির সঙ্গে এবার হাত মেলাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, কোলনে পলিপ তৈরি হওয়া এবং তা থেকে ক্যানসারে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি ঘটে অত্যন্ত ধীরে। একদম শুরুতে যখন পলিপ বা ‘আর্লি লিশন’ খুব ক্ষুদ্র আকারে তৈরি হয়, তখন শরীরে কোনও উপসর্গ থাকে না বললেই চলে। সাধারণ এন্ডোস্কোপি বা কোলনস্কোপির প্রচলিত ‘হোয়াইট লাইট ইমেজিং’ পদ্ধতিতে কোলনের জটিল ভাঁজের মধ্যে সেই সূক্ষ্ম ক্ষতের প্রায় ৩০ শতাংশই নজর এড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। চোখে না-পড়ার এই ফাঁক গলেই রোগটি পরবর্তীতে বিপজ্জনক আকার নেয়। ঠিক এই জায়গাতেই বিপ্লব ঘটিয়েছে এআই প্রযুক্তি।
এআই আদতে কাজ করে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত সতর্ক দৃষ্টির মতো। লক্ষ লক্ষ অতীত এন্ডোস্কোপি ও কোলনস্কোপির ফুটেজ, ছবি ও তথ্যের সাহায্যে এই প্রযুক্তিকে আগে থেকেই প্রশিক্ষিত করে তোলা হয়। পরীক্ষার সময় কোলন বা পাকস্থলীর দেওয়ালে অতিক্ষুদ্র অস্বাভাবিকতা, রক্তবাহের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা টিস্যুর রং পরিবর্তনের সামান্যতম ইঙ্গিত মিললেই অ্যালার্ট দেয় সিস্টেম।
ফলে খালি চোখে যা হয়তো এড়িয়ে যেত, তা ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সতর্ক হচ্ছেন চিকিৎসকেরা। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক বায়োপ্সি বা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে পলিপটি নির্বিষ নাকি ক্ষতিকারক। এমনকি রোগ জটিল হওয়ার আগেই এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে পলিপ অপসারণ বা ‘পলিপেকটমি’ করে ক্যানসারের আশঙ্কা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে।
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টদের মতে, কোলন ছাড়াও ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পূর্বাভাস পেতেও এই প্রযুক্তি বড় ভরসা জোগাচ্ছে।
চিকিৎসকদের সাফ বার্তা, প্রযুক্তি রোগ নির্ণয়কে নিখুঁত করে তুলছে ঠিকই, কিন্তু নিজের স্বাস্থ্যের রাশ রাখতে হবে নিজেদের হাতেই। অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া সামলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনাই অসুস্থতা থেকে দূরে থাকার প্রথম ও প্রধান শর্ত।