নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায়। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানকে বুধবার, ১৪ অক্টোবর, নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে রাজস্থানের জয়পুরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানে বোমা থাকার আশঙ্কা থেকে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রাথমিক সূত্রে খবর। তবে পরবর্তী সময়ে ঘটনাটিকে ঘিরে হাইজ্যাক সংক্রান্ত সতর্কবার্তার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। ফলে ঠিক কী কারণে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার AI-2030 বিমানটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার। ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল বিমানটি। মাঝপথে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পাওয়ার পর পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিমানটিকে জয়পুরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার সকালে জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।
বিমান ঘিরে নিরাপত্তার বলয়
অবতরণের পর বিমানটিকে মূল বিমান চলাচলের এলাকা থেকে সরিয়ে একটি নির্দিষ্ট আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF), স্থানীয় পুলিশ এবং বম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াডের (BDDS) কর্মীরা তল্লাশি শুরু করেন। বিমানের ভিতর, লাগেজ রাখার অংশ এবং যাত্রীদের মালপত্র খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিরাপদে নামিয়ে বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাইজ্যাক অ্যালার্ট, নাকি বোমাতঙ্ক?
ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানের ট্রান্সপন্ডারে ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ কোড সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচলে এই কোড সম্ভাব্য হাইজ্যাক বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এই সংকেত ঠিক কী কারণে পাঠানো হয়েছিল এবং এর সঙ্গে বোমাতঙ্কের কোনও সরাসরি যোগ ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ালেও বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তল্লাশিতে কোনও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে কি না, সতর্কবার্তার উৎস কী এবং বিমানটি কখন ফের দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তদন্ত ও নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। এয়ার ইন্ডিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে বিমান চলাচল মহল।
