উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানা কৌশল নিতে শুরু করেছে। এই আবহেই সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে প্রকাশ্যে জোটের প্রস্তাব দিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁর এই আহ্বান উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শনিবার মোরাদাবাদে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়েইসি বলেন, তাঁর দল চায় না উত্তরপ্রদেশে আবারও বিজেপি সরকার গঠন করুক। সেই কারণেই তিনি সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে লড়াই করতে প্রস্তুত। ওয়েইসির বক্তব্য, ভোটের আগে জোট নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। ভোট শেষ হওয়ার পর আক্ষেপ করে কোনও লাভ হবে না। তিনি আরও বলেন, অনেকেই অভিযোগ করেন যে AIMIM নির্বাচনে লড়লে বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই তিনি একসঙ্গে লড়াই করার প্রস্তাব দিচ্ছেন।
ওয়েইসির এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই প্রস্তাব নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই প্রস্তাব অখিলেশ যাদবের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কারণ, বর্তমানে কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির রাজনৈতিক বোঝাপড়া রয়েছে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও সেই সমীকরণ বজায় থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে AIMIM-কে সঙ্গে নেওয়া সহজ হবে না।
এছাড়া ওয়েইসির সঙ্গে জোট হলে বিজেপি সেই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ইতিমধ্যেই বিজেপির কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, অখিলেশ যাদব এবং ওয়েইসি দু'জনেই একই ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করেন। তাই তাঁদের সম্ভাব্য জোটকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিরোধীদের তোষণের রাজনীতি নিয়ে সরব হতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ এবং ২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে সফল হতে পারেননি অখিলেশ যাদব। টানা দুই নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি প্রত্যাশিত ফল করতে ব্যর্থ হয়। ফলে আগামী নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরে নতুন সমীকরণ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
তবে ওয়েইসির প্রস্তাব বাস্তবে জোটে রূপ নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক, আসন সমঝোতা এবং রাজনৈতিক কৌশল, সবকিছু বিবেচনা করেই সমাজবাদী পার্টি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এখন নজর থাকবে, অখিলেশ যাদব ওয়েইসির এই প্রকাশ্য আহ্বানে কী প্রতিক্রিয়া দেন এবং উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন কোনও সমীকরণ সত্যিই গড়ে ওঠে কি না।