নিউজ ডেস্ক: টেকঅফের ঠিক আগের মুহূর্ত, রানওয়ে ধরে তীব্র গতিতে ছুটতে শুরু করেছিল আমেরিকান এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানটি। আচমকাই প্রচণ্ড শব্দে ফেটে যায় বিমানের একটি চাকা। পাইলট সঙ্গে সঙ্গে আসার চেষ্টা করলেই ঘর্ষণের ফলে চাকা ও ব্রেক সিস্টেমে দাউদাউ করে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে কেবিনের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে ঘন ধোঁয়া। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালক সঙ্গে সঙ্গে টেকঅফ বাতিল করেন এবং ডেনভার বিমানবন্দরের রানওয়েতেই খুলে দেওয়া হয় বিমানের জরুরি এমার্জেন্সি স্লাইড।
বিমানে তখন উপস্থিত ছিলেন ১৭৩ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য। যে কোনও মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারতো গোটা বিমানে ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। ঘটনার আকস্মিকতায় অনেক যাত্রীই আবার দিশেহারা হয়ে পড়েন।জানা গেছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতার সাথে সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বরাত জোরে প্রাণে রক্ষা পান যাত্রীরা। জরুরি স্লাইড দিয়ে নামার সময় কয়েকজনের আচরণ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে সমালোচনা। এই রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারের যে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, বিমানের সামনের ও পেছনের দিকের জরুরি স্লাইড দিয়ে যাত্রীরা দ্রুত গড়িয়ে নিচে নামছেন অথচ জীবনের এমন চরম ঝুঁকির মুখেও একদল যাত্রীর মূল মনোযোগ যেন নিজেদের হাতব্যাগে আটকে রয়েছে। কেউ পিঠে ব্যাকপ্যাক ঝুলিয়ে স্লাইড দিয়ে নামছেন, কারও হাতে বড়সড় ট্রলি বা সুটকেস, আবার কেউ কাঁধে সাইডব্যাগ শক্ত করে আঁকড়ে রানওয়ের ওপর দৌড়াচ্ছেন। এমনকি ব্যাগ নামাতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে অনেকে রানওয়েতে আছড়েও পড়েন। পেছনে ইঞ্জিনের নিচ থেকে ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে বেরোচ্ছে, ঘটনা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকলের ইঞ্জিন। সেই আতঙ্কের আবহেও মালপত্র বাঁচানোর এই প্রবণতা দেখে আশ্চর্য হয়েছেন বিশেষজ্ঞরাও।
https://x.com/OmprakashRast13/status/2105167644194394199
আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান পরিবহন বিধি অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে বিমান খালি করার সময় সমস্ত ধরনের লাগেজ ভেতরেই ফেলে রেখে আসতে হয়। কারণ ওভারহেড বিন থেকে ব্যাগ নামাতে গিয়ে পেছনের যাত্রীদের বেরোনোর রাস্তা আটকে যায়, কয়েক সেকেন্ডের দেরিতেই ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে ঘটতে পারে বড় বিপদ। এছাড়া স্লাইড দিয়ে ভারী বা ধারালো ব্যাগ নিয়ে নামার সময় তা ফেটে গিয়ে নিষ্ক্রমণ ব্যবস্থা বিকল হওয়ারও ঝুঁকি থাকে।
