নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণে যখন নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন বার বার সামনে আসছে, তখন ভারতের অবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহ। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভারতের বিদেশনীতির সংক্রান্ত এক অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গি। দিল্লির একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকে দেওয়া সেই বক্তব্য ঘিরে নজর পড়েছে কূটনৈতিক মহলের।
প্রথম বিমস্টেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত সাহ বলেন, এই বৈঠকের আয়োজন করা ভারতের কাছে গর্ব ও সম্মানের বিষয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিমস্টেক বর্তমানে আঞ্চলিক সংহতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তার জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উপরেও জোর দেন তিনি।
বৈঠকে ভারতের ঐতিহ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ দর্শনের কথা উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই দর্শনের অর্থ গোটা বিশ্ব হলো একটি পরিবার। অমিত শাহের বক্তব্য, ভারত বরাবরই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং মানব কল্যাণের নীতিতে বিশ্বাস করে এসেছে। সেই নীতির প্রতি দেশ এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে সাহ জানান, ভারত কখনও অন্য দেশে গিয়ে আক্রমণ করা বা নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস করে না। প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগলিক অখন্ডতাকে সম্মান করার নীতিতে ভারত আস্থাশীল। পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে তার সমাধান শান্তিপূর্ণভাবে হওয়া উচিত বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু, সেই মতবিরোধের সমাধান সংঘাতের মাধ্যমে নয় বরং শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমন্বয় অত্যন্ত জরুরী।
বিমস্টেকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টিও সামনে আসে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সংগঠনে ভারতসহ সাতটি দেশ রয়েছে। বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তার মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোই এই মঞ্চের অন্যতম লক্ষ্য। বিমস্টেকের মত আঞ্চলিক মঞ্চের মাধ্যমে দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও মজবুত করার উপরই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। অমিত শাহের বক্তব্যে, সেই সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানোর বার্তাও উঠে এসেছে। এখন দেখার, এই বৈঠকে আলোচনা আগামী দিনে সদস্য দেশগুলির মধ্যে নিরাপত্তা কূটনৈতিক সহযোগিতাকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।