নয়াদিল্লি: বাসে তখন যাত্রী বোঝাই। নির্দিষ্ট রুট ধরে এগিয়ে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য পরিবহণ নিগমের (এপিএসআরটিসি) একটি বাস। পথে কয়েক জন যুবক বাস থামানোর জন্য চালককে ইশারা করেন। কিন্তু নির্দিষ্ট বাসস্টপ না থাকায় বাস থামাননি চালক। আর তাতেই রাগ! বাইকে চেপে বাসের পিছনে ধাওয়া করলেন তিন যুবক। কিছু দূর যাওয়ার পর বাসের পথ আটকে জোর করে থামানো হল গাড়ি। তার পর চালককে আসন থেকে টেনে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে মারধর। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র চাঞ্চল্য অন্ধ্রপ্রদেশে।
ঘটনাটি অন্ধ্রপ্রদেশের অন্নমাইয়া জেলার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরু থেকে কাদিরির দিকে যাচ্ছিল এপিএসআরটিসির বাসটি। মদ্দাইয়াগারিপল্লি গ্রামের কাছে তিন যুবক বাস থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে নির্দিষ্ট বাসস্টপ না থাকায় চালক বাস না থামিয়ে নির্ধারিত পথেই এগিয়ে যান। অভিযোগ, এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে বাইকে চেপে বাসটিকে ধাওয়া করেন ওই তিন যুবক।
এর পর শ্রী সত্য সাই জেলার কাদিরির কাছে বাসটিকে ছাপিয়ে সামনে চলে যান তাঁরা। বাইক দিয়ে বাসের পথ আটকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় গাড়িটি। আচমকাই বাসের চালকের কেবিনে ঢুকে তাঁকে টেনে বাইরে নামানো হয়। তার পর শুরু হয় মারধর। রাস্তায় ফেলে চালককে পর পর ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন অভিযুক্তেরা।
ঘটনার সময় আশপাশে স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেন বলেও জানা গিয়েছে। কিন্তু তাতেও মারধর থামেনি। শেষ পর্যন্ত চালককে ছেড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিন যুবক। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। চলন্ত বাসের পথ আটকে এই হামলার ঘটনায় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
চালকের অভিযোগে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা
আক্রান্ত চালক পরে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে অন্নমাইয়া জেলা পুলিশ। অভিযুক্তদের নাম বিশ্বনাথ, রামু এবং মধু কুমার। তাঁদের খোঁজে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনার ভিডিয়ো খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাস থামার পর চালককে ঘিরে ধরে মারধর করছেন কয়েক জন যুবক। স্থানীয়দের বাধা সত্ত্বেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর সরকারি পরিবহণের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দায়িত্ব পালন করাই কি চালকের অপরাধ?
বাস চালকের কাজ নির্দিষ্ট রুট ও সময়সূচি মেনে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। নির্দিষ্ট বাসস্টপ ছাড়া অন্যত্র বাস না থামানোও সেই দায়িত্বেরই অংশ। অথচ সেই নিয়ম মেনে চলার কারণেই যদি কোনও চালককে রাস্তায় নেমে মারধরের শিকার হতে হয়, তা হলে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থায় কর্মীদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত, সেই প্রশ্ন উঠবেই।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। যাত্রীবোঝাই বাসের পথ আটকে চালকের উপর হামলা শুধু একজন পরিবহণকর্মীর উপর আক্রমণ নয়, বাসের ভিতরে থাকা যাত্রীদের জীবনকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার সামিল। পুলিশের তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর।




