গুজরাত: গুজরাত উপকূলের কাছে বড়সড় মাদকবিরোধী অভিযান। উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং গুজরাত অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)-এর যৌথ অভিযানে একটি ইরানি নৌকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গুজরাত ATS।
জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে আগে থেকেই খবর ছিল যে সমুদ্রপথে গুজরাতের উপকূল ব্যবহার করে দেশে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের চেষ্টা হতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে উপকূলজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। জলপথের পাশাপাশি আকাশপথেও নজরদারি চালানো হচ্ছিল।
নজরদারির সময় গুজরাত উপকূলের অদূরে একটি ইরানি নৌকাকে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এরপর নৌকাটির গতিবিধির উপর নজর রাখে উপকূলরক্ষী বাহিনী। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে সেটিকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়।
অভিযানকারীদের দাবি, বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা হঠাৎ গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রথমে নৌকাটি থামেনি। এরপর উপকূলরক্ষী বাহিনী ধাওয়া করে নৌকাটিকে আটক করে।
নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ৫২৬ কেজি হেরোইন এবং মেথামফেটামাইন। গুজরাত ATS-এর দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা। নৌকায় থাকা পাঁচ জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযানের পর উদ্ধার হওয়া মাদক এবং নৌকাটিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদকের উৎস, কোথা থেকে তা নৌকায় তোলা হয়েছিল এবং কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল এসব তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
সমুদ্রপথে মাদক পাচারের ঘটনা রুখতে গুজরাত উপকূলে নজরদারি গত কয়েক বছরে আরও বাড়ানো হয়েছে। উপকূলরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাও সমুদ্রপথে সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের মে মাসেও গুজরাত উপকূল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছিল এবং সেই ঘটনায় পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আগেও পোরবন্দর সংলগ্ন সমুদ্রপথে কয়েক হাজার কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছিল।
ফলে সাম্প্রতিক এই অভিযান ফের প্রশ্ন তুলেছে সমুদ্রপথকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক নিয়ে। তবে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই চালানের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিল বা এর চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এখন তদন্তকারীদের নজর মূলত সেই নেটওয়ার্কের দিকে, ৫২৬ কেজি মাদক কোথা থেকে এল, কার কাছে পৌঁছনোর কথা ছিল এবং সমুদ্রপথে এই বিপুল চালানের পিছনে আরও কারা রয়েছে?
