কলকাতা, রেশমি ব্যানার্জি: পাকিস্তানি জঙ্গি সন্দেহে রিষড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে জাফর শামস ওরফে সানি নামে এক যুবককে। জানা গিয়েছে, সন্দেহভাজন একের পর এক জঙ্গি গ্রেফতার হতেই রিষড়ায় গা ঢাকা দিয়েছিল সানি। এই ঘটনাকে ঘিরে রীতিমত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। এবার এই প্রসঙ্গ নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। রাজ্য পুলিশ ও এসটিএফ-এর প্রশংসা করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিজেপি নেতা দীপঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, 'এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রিষড়া থেকে যে গ্রেফতার হয়েছে তার জন্য এসটিএফ-কে ধন্যবাদ দিতেই হয়। ৪-ঠা মে-এর পর থেকে রাজ্য পুলিশ, এসটিএফ, ইন্টেলিজেন্ট ডিপার্টমেন্ট যেভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তাতে কিছু জিনিস স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত। প্রথমত, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দক্ষতা ভারতবর্ষের কোনও পুলিশের তুলনায় কম নয়। দ্বিতীয়ত, কলকাতা পুলিশ বা এসটিএফ-এর দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তারা কাজ করতে না পারার জন্য পশ্চিমবঙ্গে টেররিস্টদের উৎপাত বেড়েছিলো। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে ডিএক্টিভেট করে রেখেছিলেন। তাদের কাজ করতে দেওয়া হতো না। কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি নির্বাচনী ফলাফলের পর পুলিশের চেহারা বদলে গিয়েছে। কারণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাবে বলে দিয়েছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি চলবে। এখন আপনারা দেখতে পারছেন এসটিএফ এত ভালো কাজ করছে আর কিছুদিন পরে দেখতে পারবেন প্রতিটা থানার পুলিশ কতটা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে।
এরই পাশাপাশি তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের বুকে জিহাদীদের চাষবাস করা হয়েছে। বিগত সরকার জিহাদীদের মদত দিয়েছে। এখন দেখতে পারবেন ধীরে, ধীরে তারা জালে উঠতে শুরু করেছে। শুধু রিষড়া কেন রাজ্যের প্রতিটি জায়গা থেকে জিহাদীরা ধরা পড়বে। এইতো সবে শুরু হয়েছে আগামীদিনে বোয়াল রুই থেকে চুনোপুটি, চিংড়ি সবাই ধরা পড়বে।
এরই পাশাপাশি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী পুরানো একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দু থেকে আড়াই লক্ষ জিহাদী পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে রয়েছে। ধীরে, ধীরে জাল গোটানো শুরু হয়েছে। একে একে সব ধরা পড়বে। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জিহাদের চাষবাস হয়েছে এটা আর হবে না আমরা এর উৎখাত করেই ছাড়বো।
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ১২-ই আগস্ট উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে রানা ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ ওঠে তিনি পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে কলকাতায় গা ঢাকা দিয়ে বসেছিলেন। পাকিস্তানি গুপ্তচর আইএসআইয়ের এজেন্ট হয়ে কাজ করছিলেন তিনি। এরপরই এসটিএফ তদন্তে নেমে বুধবার সানিকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। এই ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে রিষড়া এলাকায়।