নিউজ ডেস্ক: কাঁচির শব্দ, আয়নার সামনে বসে থাকা মানুষ আর কয়েকটি নিখুঁত হাতের চাল, এই দৃশ্য এবার যেন ছড়িয়ে পড়েছে প্রযুক্তির দুনিয়ায়। প্রথমে দেখলে মনে হবে আর পাঁচটা সাধারণ সেলুনের দৃশ্য। সামনে একজন মানুষ তার হাতে চেনা সরঞ্জাম। তবে, সেখানে মানুষ নয় সামনে বসে আছে এক অদ্ভুত শিক্ষার্থী। তাকে শেখানো হচ্ছে এমন এক কাজ, যা এতদিন মানুষের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার উপরই নির্ভরশীল ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই অদ্ভুত ভিডিও ঘিরে তাই শুরু হয়েছে কৌতুহল।
সূত্র: https://x.com/NewsAlgebraIND/status/2099471016707993603
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বদলে যাচ্ছে মানুষের কাজের ধরন। এতদিন পর্যন্ত AI-কে মূলত লেখা তৈরি, ছবি বানানো, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল কাজে ব্যবহারের কথা শোনা যেত। কিন্তু, এবার মানুষের হাতে কলমে শেখা একটি পেশাগত দক্ষতাকেও AI-দ্বারা প্রশিক্ষণের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আর সেই অদ্ভুত এবং মজার ঘটনাকে তুলে ধরা হয়েছে সমাজমাধ্যমের একটি ভাইরাল ভিডিওতে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে একজন নাপিত নিজের পেশাগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি এআইভিত্তিক ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। অর্থাৎ, চুল কাটার মত হাতে-কলমে শেখা একটি কাজ কিভাবে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুকরণ করা যেতে পারে ভিডিওতে সেই দিকই যেন তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটির পোস্টদাতাকারী রসিকতা করে লিখেছেন এবার নাপিতরাও AI বিকল্পদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। সেখান থেকেই কৌতুকবসত সামনে এসেছে 'HairGPT' নামটিও।
তবে, ChatGPT নামের সঙ্গে মিল থেকে তৈরি নাম মূলত ভিডিওটির হাস্যরসাত্মক দিকটিও আরও আকর্ষণীয় করেছে। মজার এই উপস্থাপনার মধ্যেই উঠে এসেছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আজ যদি AI মানুষের পেশাগত দক্ষতা শেখে তাহলে আগামী দিনে আরও কত ধরনের কাজ প্রযুক্তির আওতায় চলে আসতে পারে?
এদিকে, পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ বিষয়টিকে নিছক মজা হিসেবে নিয়েছেন। আবার কেউ AI-এর দ্রুত বিকাশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নেটিজেনদের বক্তব্য, একজন কর্মী নিজের দক্ষতা দিয়ে AI-কে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এবং বিনিময়ে পারিশ্রমিকও পাচ্ছেন, তাই বিষয়টিকে শুধুমাত্র AI মানুষের কাজ কেড়ে নিচ্ছে, হিসেবে দেখা উচিত নয়। অন্যদিকে, কেউ কেউ ভবিষ্যতে AI মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে রসিক মন্তব্য করেছেন।
অর্থাৎ, একটি মজার ভিডিও ঘিরে প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান নিয়ে পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে HairGPT হয়তো মজার নামেই সামনে এসেছে। কিন্তু এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন, মানুষের হাতে শেখা দক্ষতা যদি মেশিনও আয়ত্ব করতে শুরু করে, তাহলে আগামী দিনে ভবিষ্যৎ কর্মজগতে মানুষ ও মেশিনের সীমারেখা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। এই প্রশ্নই ঘুরছে সবার মাথায়।