নিউজ ডেস্ক: চলন্ত গাড়ির উপরে উঠে একের পর এক কাচ ভাঙছেন এক মহিলা! অসমের কামরূপ জেলার এই ঘটনাকে ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। প্রথমে মহিলার এমন আচরণ দেখে অপহরণের আশঙ্কা করেছিলেন স্থানীয়দের একাংশ। কিন্তু তদন্তে নেমে অন্য সম্ভাবনার দিকেও নজর দিচ্ছে পুলিশ। মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিবাদের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে কামরূপ জেলার বামুনিগাঁও এলাকায়। AS 01 DX 5856 নম্বরের একটি হুন্ডাই গাড়ি গোয়ালপাড়ার দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় গাড়িটি রাস্তার ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। এরপরই গাড়ির যাত্রীদের সঙ্গে ওই মহিলার বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মহিলা চলন্ত গাড়ির উপরে উঠে কাচ ভাঙতে শুরু করেন। এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখতে রাস্তায় ভিড় জমে যায়।
মহিলার আচরণ এবং গাড়ির পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়, তাঁকে জোর করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কি না। এরপর গাড়ির যাত্রীদের থামানো হয় এবং খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। প্রথমে অপহরণের সম্ভাবনা সামনে এলেও, পরে তদন্তকারীরা আর্থিক বিবাদের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
মামলায় ছয় জনের নাম
এই ঘটনায় তিন জন পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের পরিচয় ফরিদুল ইসলাম, আমিদুল এবং আব্বাস আলি হিসেবে জানা গিয়েছে। ফরিদুল গোয়ালপাড়া জেলার লক্ষীপুরের বাসিন্দা, আমিদুল বড়ুয়াঝাড়ের বাসিন্দা এবং আব্বাস আলির বাড়ি দরং জেলার উলুবাড়িতে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ওই মহিলার পাশাপাশি থাংখা হাও এবং চ্যাটমিন খাং নামের আরও দু’জনের নামও এই ঘটনায় উঠে এসেছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই মহিলা এবং এই দুই ব্যক্তি এর আগে একটি পৃথক মাদক সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই পুরনো মামলার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মাদক কারবারের টাকার যোগ রয়েছে কি?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ করা হচ্ছে, মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিবাদের জেরে এই সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। তবে কার সঙ্গে কার কী ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছিল, ঠিক কী নিয়ে বিবাদ শুরু হয়েছিল এবং গাড়ির কাচ ভাঙার পিছনে মহিলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বোকো থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মুন্না পাচানি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার আগের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অপহরণের সন্দেহ, নাকি অন্য কোনও বিবাদ?
ঘটনার শুরুতে অপহরণের আশঙ্কা তৈরি হলেও, সেই সন্দেহের সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদক সংক্রান্ত পুরনো মামলার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার যোগসূত্র এবং আর্থিক বিবাদের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
আপাতত অসমের এই ঘটনাকে ঘিরে রহস্য কাটেনি। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রয়েছে।




