বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা এক মহিলা। তাকে ঘিরে বহু মানুষ। প্রকাশ্যে দিনের আলোতেই ওই মহিলার উপর চলল অমানবিক অত্যাচার। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে। অভিযোগ, বিজেপি সমর্থক এক মহিলাকে প্রকাশ্যে মারধোর, বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে অপমান এবং মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
আক্রান্তের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি-বিবাদ এবং রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে নারেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে বিগত বছরের ৩-রা সেপ্টেম্বর তাদের উপর হামলা হয়। প্রাণের ভয়ে তাদেরকে বাড়ি থেকে চলে যেতে হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ৯-ই সেপ্টেম্বর বাড়ি ফেরেন তারা। তারপর থেকে লাগাতার হুমকি, ভয় দেখানো, এবং বিভিন্ন রকমের হয়রানির মুখে পড়তে হয় তাদের।
অভিযোগ, শুক্রবার একদল দুষ্কৃতী জোরপূর্বক আক্রান্তের বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর ওই মহিলাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসা হয়। তারপর ওই মহিলাকে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। তার মাথার চুলের একটি বড় অংশ কেটে দেওয়া হয়। শুধু মারধরেই থেমে থাকেনি হামলাকারীরা। ওই মহিলার গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে খুনেরও চেষ্টা করা হয়। ব্লেড দিয়ে জিভ কেটে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে বাঁধা দেওয়ায় কোনোরকমে প্রাণে বাঁচেন ওই মহিলা। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আক্রান্তের পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম এবং তাঁর স্বামীর ঘনিষ্ঠ। তাঁদের মদতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ফিরদৌসি বেগমের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাদের সমর্থককে নিশানা করে এই হামলা চালানো হয়েছে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করা হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে।
ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে চলছে পুলিশের তল্লাশি।