নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় সন্তান জন্ম দেওয়ার পরই গ্রেফতার হলেন এক যুবক। অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী এখনও নাবালিকা। বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে ওই কিশোরী সন্তান প্রসব করার পর বয়সের বিষয়টি সামনে আসতেই পুলিশকে খবর দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপরই সদ্য বাবা হওয়া ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে এক অন্তঃসত্ত্বাকে ভর্তি করানো হয়েছিল। চিকিৎসা চলাকালীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, ওই তরুণীর বয়স ১৮ বছরের কম। তিনি সন্তান প্রসব করার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। হাসপাতালের তরফে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বাগদা থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছয়। এরপর তরুণীর স্বামী সুভান দাসকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মঙ্গলবার তাঁকে বনগাঁ আদালতে হাজির করানোর কথা।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কবে এবং কীভাবে ওই নাবালিকার সঙ্গে সুভানের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের সম্পর্কের সময়কাল, বিয়ের পরিস্থিতি এবং নাবালিকার বয়স সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন রাজ্যজুড়ে বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকাদের গর্ভধারণের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে নাবালিকাদের বিয়ে রুখতে পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়ের সঙ্গে বিয়ে এবং যৌন সম্পর্কের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। বিশেষ করে নাবালিকার বয়স এবং ঘটনার পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে POCSO Act-সহ একাধিক আইনের ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কোন কোন ধারায় মামলা হয়েছে, তা আদালতে পুলিশের রিপোর্ট ও পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
নাবালিকার বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রেও জন্মের শংসাপত্র, স্কুলের নথি বা অন্যান্য সরকারি নথি পরীক্ষা করা হতে পারে। একইসঙ্গে সন্তান জন্মের ঘটনাটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নাবালিকার সঙ্গে কবে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, বিয়ের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা ছিল কি না এবং আইন ভাঙার কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।
