ব্যাংকের অন্দরেই প্রতারণার ছক। নিশানায় ব্যাংক কর্মী। গ্রাহকদের আর্থিক তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে উঠল বড় প্রশ্ন। গ্রাহকের গোপন তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে এক ডেপুটি ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশ। ধৃতের নাম মমতা কুমারী। তিনি আইসিআইসিআই ব্যাংকের চেতলা শাখায় ডেপুটি ম্যানেজারের পদে কর্মরত ছিলেন বলে পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ব্যাংক ফ্রড সেকশন উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করে মমতা কুমারীকে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, এক গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্য বেআইনিভাবে ব্যবহার করে প্রায় এক লক্ষ টাকা খরচ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র তাই নয়, অন্য আরেক গ্রাহকের সই নকল করে তার ফিক্সড ডিপোজিট থেকে ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংকের প্রায় ৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ।
সূত্রের খবর, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। আইসিআইসিআই ব্যাংকের চেতলা শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার অঙ্কিত কাতুরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মমতার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ এবং ৪০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মমতা কুমারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া যায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। এরপর দীর্ঘ ৩ বছর তদন্তের পর ৮-ই আগস্ট উত্তরপ্রদেশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর বালিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাকে পেশ করা হয়। পুলিশ কলকাতায় এনে পরবর্তী তদন্তের জন্য ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানায় আদালতের কাছে। এরপর আদালত ৪৮ ঘণ্টার ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করে বলে জানা যায়।
সূত্রে মারফত জানা যায়, সোমবার সকালে তাকে আলিপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করবে। তদন্তকারীদের অনুমান, এত বড় অংকের প্রতারণা একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এই ঘটনায় আরো কেউ জড়িয়ে থাকতে পারে। তাই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসা বাত করা প্রয়োজন। প্রতারণার টাকা কোথায় সরানো হয়েছিল, সেই টাকার হদিস পাওয়া যায় কিনা এবং এই ঘটনার সাথে আর কে কে যুক্ত আছে, সেই বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে।
এই ঘটনার পর থেকে আতঙ্কিত গ্রাহকেরা। কারণ ব্যাংকেই নিজেদের সঞ্চিত অর্থ জমা রাখেন গ্রাহকেরা। আর সেই অর্থ যদি খোদ ব্যাংক কর্মীদের মাধ্যমেই চোট হয়ে যায় তাহলে ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন থেকে যায়। যদিও সমস্ত কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে।